পাটালী গ্রুপের ফরহাদ হত্যা মামলার আসামি আরমান গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, মেহেদি হাসান
রাজধানীর কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন আরশিনগর এলাকার চাঞ্চল্যকর ‘পাটালী গ্রুপ’-এর ফরহাদ হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ৩ নম্বর আসামি ও আরমান-শাহরুখ গ্রুপের শীর্ষ নেতৃত্বদানকারী সবুজ হোসেন আরমানকে (২১) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-২ (এসআরবি-২)।
এসআরবি-২-এর দাবি, গ্রেপ্তারের সময় আরমানের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সামুরাই উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তার ভাড়া বাসায় তল্লাশি চালিয়ে আরও চারটি সামুরাই উদ্ধার করা হয়। একই অভিযানে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুরের কাটাসুর এলাকায় রাস্তার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের অস্থায়ী টিনশেডে তল্লাশি চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল ও একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়েছে।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর আরশিনগর এলাকার একটি সেলুনে ঢুকে আরমানসহ কয়েকজন এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে এবং চাপাতি দিয়ে ফরহাদকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের মা নাছিমা বেগম বাদী হয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে দায়ের করা হয়। মামলার নম্বর ৪০ এবং এতে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারা উল্লেখ করা হয়েছে।
এসআরবি-২ জানায়, ২৮ সেপ্টেম্বর ভোররাতে নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, ফরহাদ হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ৩ নম্বর আসামি সবুজ হোসেন আরমান মোহাম্মদপুর থানাধীন বুদ্ধিজীবী ১ নম্বর রোড এলাকায় অবস্থান করছেন। পরে সেখানে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আরমান-শাহরুখ গ্রুপের শাহরুখকে গত ১৬ আগস্ট এসআরবি-২ গ্রেপ্তার করেছিল। গ্রেপ্তারকৃত আসামির কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফরহাদ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এসআরবি-২-এর তথ্যমতে, গ্রেপ্তারকৃত সবুজ হোসেন আরমানের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় দাঙ্গা, চুরি, হত্যাচেষ্টা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে পাঁচটি মামলা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এর আগেও তাকে একাধিকবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি-২।


