নিষেধাজ্ঞা শেষে কাপ্তাই হ্রদে ফিরছে মাছ আহরণের ব্যস্ততা।

মেহেদী হাসান, রাঙামাটি প্রতিনিধি :
দীর্ঘ প্রায় তিন মাস ১০ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে আগামী ১১ আগস্ট থেকে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে মাছ শিকার, পরিবহন ও বাজারজাতকরণ উন্মুক্ত হচ্ছে। এতে হ্রদকে ঘিরে কর্মচাঞ্চল্য ফিরছে জেলে, মাছ ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাজারে দেশীয় মাছের সরবরাহ বাড়ার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাঙামাটি পার্বত্য জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজমা আশরাফীর স্বাক্ষরিত গত ৬ আগস্টের আদেশে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি জানানো হয়। আদেশ অনুযায়ী, ১০ আগস্ট রাত ১২টা থেকে মাছ ধরা শুরু করা যাবে এবং ১১ আগস্ট ভোর ৬টা থেকে আহরিত মাছ পরিবহন ও বাজারজাত করা যাবে।
তবে মাছ শিকার ও বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত শর্ত কঠোরভাবে মানতে হবে। হ্রদে মাছ শিকারের জন্য বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি), রাঙামাটি থেকে লাইসেন্স গ্রহণ এবং নির্ধারিত শেয়ার বা শুল্ক পরিশোধ করতে হবে।
বিএফডিসির নির্ধারিত অবতরণ কেন্দ্র ছাড়া অন্য কোনো স্থানে মাছ নামানো যাবে না। নির্ধারিত শুল্ক পরিশোধ ছাড়া মাছ বা শুঁটকি ক্রয়-বিক্রয় এবং নির্ধারিত সময়ের বাইরে মাছ অবতরণও নিষিদ্ধ থাকবে।
এদিকে কাপ্তাই হ্রদের ঘোষিত মৎস্য অভয়াশ্রমগুলোতে সারা বছর মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকবে। পাশাপাশি ৯ ইঞ্চি বা ২৩ সেন্টিমিটারের কম দৈর্ঘ্যের মাছ ও মাছের পোনা আহরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। হ্রদের তলদেশ থেকে গাছের গুঁড়ি বা স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘গুইট্টা’ তোলা, উঠানো কিংবা অপসারণের ওপরও সারা বছর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, চিতল, ফলি, বোয়ালসহ দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছের প্রজনন বৃদ্ধি ও বিলুপ্তি রোধে এসব বিধিনিষেধ রাখা হয়েছে। মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০ যথাযথভাবে অনুসরণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
রাঙামাটি মৎস্য উন্নয়ন ও বিপণন কেন্দ্রের (বিএফডিসি) ব্যবস্থাপক কমান্ডার মোহাম্মদ ফয়েজ আল করিম জানান, ১১ আগস্ট থেকে কাপ্তাই হ্রদের মাছ সারাদেশে বিপণন শুরু হবে। এ জন্য বিএফডিসি কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
দীর্ঘদিন মাছ আহরণ বন্ধ থাকায় হ্রদের ওপর নির্ভরশীল জেলেদের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে স্বস্তি ফিরেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, হ্রদ খুলে দেওয়ার ফলে মাছ আহরণ, পরিবহন ও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান ও আয়-রোজগারে গতি ফিরবে। পাশাপাশি বাজারে দেশীয় মাছের সরবরাহও বাড়বে।
তবে নিষেধাজ্ঞার সুফল ধরে রাখতে পোনা ও ছোট মাছ নিধন, অভয়াশ্রমে মাছ ধরা এবং অবৈধভাবে মাছ অবতরণ ও বাজারজাতকরণ বন্ধে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেলা প্রশাসনের আদেশে সতর্ক করে বলা হয়েছে, নির্ধারিত শর্ত লঙ্ঘন করলে তা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কাপ্তাই হ্রদ বাংলাদেশের বৃহত্তম কৃত্রিম জলাধার। কর্ণফুলী নদীর ওপর কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণের ফলে সৃষ্ট এ হ্রদ বর্তমানে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মৎস্যসম্পদ ও হাজারো মানুষের জীবিকার অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে ভূমিকা রাখছে।


