সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ঢাকা

অর্থনীতি

রাঙামাটিতে ত্রাণের চাল নিতে উপচেপড়া ভিড়, নিয়ন্ত্রণে হিমশিম প্রশাসন

মেহেদী হাসান – রাঙামাটি

রাঙামাটিতে দুর্যোগকালীন ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে খাদ্য সহায়তার চাল নিতে উপচেপড়া ভিড়ের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল থেকে রাঙামাটি পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের উমদামিয়া হিল পৌর জুনিয়র হাই স্কুল প্রাঙ্গণে চাল নিতে জড়ো হন বিপুলসংখ্যক মানুষ। একপর্যায়ে মানুষের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে।

সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে রাঙামাটি পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে অনেক পরিবার বসতবাড়ি হারিয়েছে, অনেকের ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি জীবিকার উৎস হারিয়ে নিম্নআয়ের অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ায় খাদ্য সংকটেও দিন কাটছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর।
এমন পরিস্থিতিতে ‘দুর্যোগকালীন ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মানবিক ত্রাণ সহায়তা-২০২৬’ কর্মসূচির আওতায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হচ্ছে। কর্মসূচিটি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এবং রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের বাস্তবায়নে পরিচালিত হচ্ছে।

জানা গেছে, রাঙামাটি পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের জন্য এক হাজার টোকেন বরাদ্দ রয়েছে। প্রতিটি টোকেনের বিপরীতে ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা ছিল। সকাল ৮টা থেকে চাল বিতরণ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ভোর ৬টা থেকেই উপকারভোগীরা বিতরণকেন্দ্রে এসে সারিতে দাঁড়াতে শুরু করেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে মানুষের চাপ।

পরে টোকেনের পাশাপাশি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দেখিয়েও চাল বিতরণ শুরু হলে ভিড় আরও বেড়ে যায়। এতে বিতরণকেন্দ্রে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে এনআইডির মাধ্যমে চাল বিতরণ বন্ধ করে শুধু টোকেনের ভিত্তিতে চাল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ সময় কয়েকজন উপকারভোগী অভিযোগ করেন, একই পরিবারের একাধিক সদস্য এনআইডি ব্যবহার করে চাল নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এতে নির্ধারিত উপকারভোগীদের মধ্যে চাল পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে তারা জানান। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

টোকেনধারী উপকারভোগীরা বলেন, টোকেন অনুযায়ী চাল পাওয়ার কথা থাকলেও এনআইডির মাধ্যমে চাল বিতরণ শুরু হওয়ায় মানুষের চাপ বেড়েছে। এতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বরাদ্দের চাল শেষ হয়ে গেলে টোকেনধারীদের কেউ কেউ প্রাপ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত থেকে ভিড় সামলানোর চেষ্টা করেন। পরে শুধু টোকেনের ভিত্তিতে চাল বিতরণ কার্যক্রম চালানো হয়। উপস্থিত উপকারভোগীদের সারিবদ্ধভাবে চাল নিতে সহায়তা করেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

এদিকে জুমার নামাজের পর বিতরণকেন্দ্রে মানুষের উপস্থিতি আরও বেড়ে যায়। মানুষের তুলনায় চালের পরিমাণ কম থাকায় টোকেনপ্রতি চালের পরিমাণও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। শুরুতে প্রতিটি টোকেনের বিপরীতে ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও পরে টোকেনপ্রতি ৭ কেজি করে চাল বিতরণ করা হচ্ছে।
এর ফলে উপকারভোগীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। একই ব্যক্তি বা পরিবারের একাধিক সদস্য যাতে একাধিকবার চাল নিতে না পারেন, সে বিষয়েও কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।

এদিকে রাঙামাটি পৌর এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে পর্যায়ক্রমে খাদ্য সহায়তা অব্যাহত রাখার দাবি উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মতে, পাহাড়ধস ও বন্যার কারণে অনেক পরিবার এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি। এ অবস্থায় ত্রাণ সহায়তা তাদের জন্য সাময়িকভাবে হলেও বড় ধরনের স্বস্তি দিচ্ছে।

ত্রাণ বিতরণকে কেন্দ্র করে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতির কারণে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। তাদের তদারকি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে খাদ্য সহায়তা বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে।

তবে এনআইডির মাধ্যমে চাল বিতরণ কেন শুরু করা হয়েছিল, কতজন এনআইডি দেখিয়ে চাল নিয়েছেন এবং টোকেনপ্রতি চালের পরিমাণ ১০ কেজি থেকে কমিয়ে ৭ কেজি করার সুনির্দিষ্ট কারণ কী, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।