ঈদগাঁওয়ে বন্ধ চলাচলের পথের কাঁটাতার খুলে দিল প্রশাসন, পুনরায় বাঁধা দিলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি

সেলিম উদ্দিন, কক্সবাজার।
কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ে বন্ধ চলাচলের পথের কাঁটাতার খুলে দিল প্রশাসন। সম্প্রতি চলাচলের পথ পরিদর্শন করেছে উপজেলা প্রশাসন। পরিদর্শন শেষে দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত পথটি খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মংচিংনু মারমা।
গত ২০ জুলাই বিভিন্ন দৈনিকে ঈদগাঁওয়ে অবরুদ্ধ ডজনাধিক পরিবার, ঘেরাবেড়া দিয়ে চলাচলের রাস্তা বন্ধের অভিযোগ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। তারই ধারাবাহিকতায় ও স্থানীয়দের অভিযোগের প্রোক্ষিতে প্রশাসন চলাচল পথের কাঁটাতার তুলে নেয়।
জানা যায়, উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের পুর্ব বোয়ালখালী ৫ নম্বর ওয়ার্ডে জনগণের চলাচলের পথ বন্ধ করে কাটাতারের ঘেরাবেড়া দেয় স্থানীয় মোক্তার আহমদের পুত্র মোঃ জামাল, মোঃ নুরু ও সৈয়দ আলম। এ পথটি স্থানীয়রা শত বছর ধরে ব্যবহার করে আসছেন। বর্তমানে ওই এলাকায় প্রায় ডজনাধিক পরিবার বসবাস করছে। সম্প্রতি পার্শ্ববর্তী মোক্তার আহমদের ছেলেরা বিরোধের জেরে চলাচলের পথটি তারকাঁটা দিয়ে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে ১০/১২ টি পরিবারের সদস্য এবং আশপাশের সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন।
স্থানীয়দের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঈদগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরিদর্শনের সময় অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সহকারী (ভূমি) কর্মকর্তা আবদুল জব্বার, ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম, থানা পুলিশ ও গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং সংশ্লিষ্টদের তাৎক্ষণিকভাবে পথটি খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে চলাচলের পথটি খুলে দেওয়া হয়।
এ সময় ইউপি চেয়ারম্যান স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
পাশাপাশি ভবিষ্যতে কেউ যদি পুনরায় পথটি বন্ধ করার চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সতর্ক করেন। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নেওয়ারও নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এদিকে দীর্ঘদিনের চলাচর পথ দখলমুক্ত হওয়ায় ঐ এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ জসিম, মোহাম্মদ সাইফুল, আব্দুস সালাম, আব্দু শুক্কুর, মোহাম্মদ আরিফ, মোঃ নুরুল কাদের, মোহাম্মদ হানিফ, মোহাম্মদ সাইমন ও নজরুল ইসলামসহ অনেকে উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ, ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা, ইউপি চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি সাধুবাদ জানিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।


