সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ঢাকা

আইন ও আদালত

কেএমপিতে মাস্টার প্যারেড, কল্যাণ সভা ও মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা অনুষ্ঠিত

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) মাস্টার প্যারেড, কল্যাণ সভা ও মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) নগরীর বয়রাস্থ পুলিশ লাইন্সে পৃথকভাবে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

সকাল ৮টায় বয়রাস্থ পুলিশ লাইন্স মাঠে মাস্টার প্যারেডের মধ্য দিয়ে দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। পুলিশ সদস্যদের শারীরিক সক্ষমতা, সুদৃঢ় মনোবল, পেশাগত দক্ষতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিয়মিত মাস্টার প্যারেডের আয়োজন করা হয়।

মাস্টার প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার *মোঃ সাজ্জাদুর রহমান। প্যারেড কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) **রিপন চন্দ্র সরকার*।

প্যারেড পরিদর্শনকালে পুলিশ কমিশনার বলেন, একটি মেট্রোপলিটন পুলিশ ইউনিট হিসেবে কেএমপির প্যারেড, পোশাক-পরিচ্ছদ, আচার-আচরণ ও শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে আরও উন্নত মান বজায় রাখতে হবে। নিয়মিত মাস্টার প্যারেড আয়োজনের মাধ্যমে পুলিশ সদস্যদের দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি প্যারেডে অংশগ্রহণকারী পুলিশ সদস্যদের আন্তরিকতা ও পরিশ্রমের প্রশংসা করেন এবং খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখতে নিষ্ঠা, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে পরবর্তী মাস্টার প্যারেড আরও সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও মানসম্মত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

পুলিশ সদস্যদের কল্যাণে গুরুত্বারোপ
পরে সকাল ১০টায় বয়রাস্থ পুলিশ লাইন্স মাল্টিপারপাস হলে কেএমপির কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন পুলিশ কমিশনার মোঃ সাজ্জাদুর রহমান।

সভায় বিগত কল্যাণ সভায় পুলিশ সদস্যদের উত্থাপিত বিভিন্ন প্রস্তাব, দাবিদাওয়া এবং সেসব বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যরা তাদের সমষ্টিগত বিভিন্ন সমস্যা ও দাবিদাওয়া পুলিশ কমিশনারের কাছে তুলে ধরেন।

পুলিশ কমিশনার মনোযোগ সহকারে পুলিশ সদস্যদের বক্তব্য শোনেন এবং উত্থাপিত বিষয়গুলো দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।

অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের সংবর্ধনা
কল্যাণ সভায় অবসরে যাওয়া সহকারী পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) *খোন্দকার হোসেন আহম্মদসহ আরও ৯ জন পুলিশ সদস্যকে* ফুলেল শুভেচ্ছা, ক্রেস্ট ও উপহারসামগ্রী প্রদান করা হয়।

এ সময় দীর্ঘ কর্মজীবনে পুলিশ বাহিনীতে তাদের অবদানের প্রতি সম্মান জানানো হয়।

এছাড়া খুলনা মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় *জুলাই ও আগস্ট ২০২৬ মাসে সন্তোষজনক ভূমিকা রাখায় বিভিন্ন পদমর্যাদার ৩৭ জন পুলিশ সদস্যকে পুরস্কৃত* করা হয়। তাদের দায়িত্বশীলতা, পেশাগত দক্ষতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে এসব পুরস্কার দেওয়া হয়।

অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপের নির্দেশ
দুপুর ১টায় বয়রাস্থ পুলিশ লাইন্সের লাউঞ্জ-২-এ কেএমপির মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাতেও সভাপতিত্ব করেন পুলিশ কমিশনার মোঃ সাজ্জাদুর রহমান।

সভায় খুলনা মহানগরীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

পুলিশ কমিশনার মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখার পাশাপাশি অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন। অপরাধপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, নিয়মিত নজরদারি জোরদার এবং পুলিশের পেশাগত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভায় কেএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে আলোচনা করেন।

ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতি
মাস্টার প্যারেড, কল্যাণ সভা ও মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় কেএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় *মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ খালেদ, পিপিএম-সেবা, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক অ্যান্ড প্রটোকল, অতিরিক্ত দায়িত্বে অ্যাডমিন অ্যান্ড ফিন্যান্স); **এম. এম. শাকিলুজ্জামান*, ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (সদর দপ্তর, অতিরিক্ত দায়িত্বে এফ অ্যান্ড বি), অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ভারপ্রাপ্তসহ কেএমপির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কেএমপি সূত্র জানায়, নিয়মিত মাস্টার প্যারেড, পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ এবং মাসিক অপরাধ পর্যালোচনার মাধ্যমে বাহিনীর পেশাগত দক্ষতা ও শৃঙ্খলা আরও জোরদারের পাশাপাশি নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।