২৭ বছর পর খুলনা কুখ্যাত সন্ত্রাসী এরশাদ শিকদারের সহযোগী জয়নাল সরদার গ্রেপ্তার

ফাহিম ইসলাম,খুলনা জেলা প্রতিনিধিঃ
খুলনার আলোচিত সন্ত্রাসী এরশাদ শিকদারের অন্যতম সহযোগী ও একটি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি জয়নাল সরদারকে দীর্ঘ ২৭ বছর পর গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা মডেল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার জয়নাল সরদারের বয়স আনুমানিক ৫৫ বছর। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজের পরিচয় পরিবর্তন করে দেশের বাইরে আত্মগোপনে ছিলেন। প্রায় ২৭ বছর ধরে ভারত ও কুয়েতে অবস্থান করার পর সম্প্রতি দেশে ফিরে আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানা গেছে।
এসআরবি-৬ ও এসআরবি-৮-এর যৌথ একটি দল গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জয়নালের অবস্থান শনাক্ত করে। পরে সোনাডাঙ্গা মডেল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সোনাডাঙ্গা মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
১৯৯৯ সালের হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজা
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট মামলার তথ্য অনুযায়ী, জয়নাল সরদারের বিরুদ্ধে ১৯৯৯ সালে খুলনার রূপসা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় এরশাদ শিকদারকে ১ নম্বর আসামি করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। মামলায় জয়নাল সরদারসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত জয়নাল সরদারকে হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন। একই ঘটনায় মরদেহ গুমের অভিযোগে তাকে পৃথকভাবে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
তবে রায় ঘোষণার পর থেকেই জয়নাল পলাতক ছিলেন। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে অবস্থান করেন এবং পরিচয় পরিবর্তন করে আত্মগোপনে ছিলেন বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এরশাদ শিকদারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী
খুলনার আলোচিত অপরাধ জগতের অন্যতম নাম ছিল এরশাদ শিকদার। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অপহরণ, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ ও মামলা ছিল। তার সহযোগীদের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে ছিল।
জয়নাল সরদারও এরশাদ শিকদারের অন্যতম সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য ও সংশ্লিষ্ট মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে। ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে খুলনায় সংঘটিত একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। ওই মামলায় পরবর্তীতে তার সাজা হয়।
২৭ বছর পর গ্রেপ্তার
দীর্ঘ সময় ধরে পলাতক থাকার কারণে জয়নাল সরদারকে গ্রেপ্তার করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে তিনি গ্রেপ্তার এড়িয়ে ছিলেন।
এসআরবি সূত্র জানায়, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত নজরদারির মাধ্যমে জয়নালের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর তার গতিবিধি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে তাকে কোনো ধরনের বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, গ্রেপ্তারের পর জয়নাল সরদারকে সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও সাজা সংক্রান্ত নথিপত্র যাচাইসহ পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবেই জয়নাল সরদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে থাকা মামলার রায় ও সাজা কার্যকরের জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


