বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ঢাকা

পাহাড়

লামায় নদী-ঝিরির ভাঙনে বিলীনের পথে কেন্দ্রীয় মহাশ্মশান রিটেইনিং গাইড ওয়াল নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

নজরুল ইসলাম, লামা (বান্দরবান):

বান্দরবানের লামা পৌর শহরের হাসপাতালপাড়া এলাকায় শত বছরের পুরোনো লামা কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানটি নদী ও পাহাড়ি ঝিরির ভাঙনে বিলীনের পথে। একদিকে মাতামুহুরী নদী, অন্যদিকে নুনারঝিরির ভাঙনে দিন দিন সংকুচিত হয়ে আসছে শ্মশানের জায়গা। এ অবস্থায় শ্মশানটি রক্ষায় দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০০ বছর আগে মাতামুহুরী নদীর পাড় ও নুনারঝিরির শেষ প্রান্তে প্রায় ৪০ শতক জায়গার ওপর গড়ে ওঠে লামা কেন্দ্রীয় মহাশ্মশান। পৌর এলাকায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মৃতদের শেষকৃত্যের জন্য এটিই একমাত্র নির্ভরযোগ্য স্থান। তবে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে নদী ও ঝিরির পানির স্রোতে তীর ভাঙনের কারণে শ্মশানের বড় একটি অংশ ইতোমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে।

লামা কেন্দ্রীয় মহাশ্মশান কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাশু কর্মকার বলেন, “শ্মশানের পাশে নুনারঝিরির পাড়ে একটি রিটেইনিং গাইড ওয়াল নির্মাণের জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানাচ্ছি।”

তিনি বলেন, দ্রুত রিটেইনিং গাইড ওয়াল নির্মাণ করা না হলে আগামী বর্ষায় শ্মশানের অবশিষ্ট জায়গাটুকুও ভাঙনের কবলে পড়তে পারে।

স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা জানান, ভাঙনের কারণে শ্মশানের অনেক জায়গা নদী ও ঝিরির গর্ভে চলে গেছে। বর্ষায় পানির উচ্চতা বাড়লে শ্মশান এলাকায় পানি উঠে যায় এবং মৃতদেহ দাহ ও সমাধির স্থানেও পানি ঢুকে পড়ে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় শ্মশানটি নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় রাতে নিরাপত্তাহীনতারও সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সনাতনী সমাজের দাবি, শ্মশানটি রক্ষায় দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নুনারঝিরির পাড়ে রিটেইনিং গাইড ওয়াল নির্মাণ, বাউন্ডারি ওয়াল ও পর্যাপ্ত লাইটিং ব্যবস্থা করতে হবে।

এ বিষয়ে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক মো. মঈন উদ্দিন জানান, শ্মশান ভাঙনের বিষয়টি তাকে কেউ অবহিত করেননি। তবে পৌর প্রকৌশলীর মাধ্যমে বিষয়টি বিস্তারিত জেনে শ্মশান রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।