বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ঢাকা

আইন ও আদালত

এনএসআইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের মূলহোতা গ্রেপ্তার

মেহেদি হাসান,নিজস্ব প্রতিবেদক:

জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)-এর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের অন্যতম মূলহোতা মোহাম্মদ আরজুরহমান (৪৭)কে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-৪ (এসআরবি-৪) ও এসআরবি-১-এর যৌথ আভিযানিক দল।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বনানী রোড ব্লক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসআরবি-৪-এর প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলতি বছরের ১৬ জুলাই মানবপাচার চক্রের প্রতারণার শিকার কামরুন নাহার সাহা এনএসআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরবর্তী তদন্তে বেরিয়ে আসে, চক্রটি ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে আকর্ষণীয় বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিত।

চক্রটি বাংলাদেশ থেকে প্রথমে এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাঠিয়ে পরে নেপাল বা শ্রীলঙ্কা হয়ে মিশর ও লিবিয়া এবং সেখান থেকে ঝুঁকিপূর্ণ নৌপথে ইউরোপে পাঠানোর প্রলোভন দেখাত। ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে জনপ্রতি প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা, এমনকি ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এসআরবি-৪ জানায়, আরজুরহমান প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রায় ১২ বছর ধরে অবৈধভাবে বিদেশে লোক পাঠানো ও মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। বিভিন্ন লাইসেন্সবিহীন এজেন্সির নাম ব্যবহার করে বিদেশে লোক পাঠানোর কার্যক্রম পরিচালনা করত চক্রটি। এর মধ্যে ‘আরজুরমেশন লিমিটেড’ ও ‘নারফস এন্ড ইমিগ্রেশন লিমিটেড’সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, চক্রটি বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বেকার যুবক ও প্রত্যন্ত এলাকার নারীদের টার্গেট করে বিদেশে উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিত। গ্রেপ্তার আরজুরহমানের গত এক বছরের একটি ব্যাংক স্টেটমেন্টে মোট ১ কোটি ৭০ লাখ ৭৫ হাজার ৪৫০ টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া নারীদের ভুয়া ভিসা ও অন্যান্য জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে বিদেশে পাচার, বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন দেখিয়ে অনৈতিক কাজে জড়িত হতে বাধ্য করা এবং রাজি না হলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, কাউকে কাউকে জিম্মি করে রাখা, শারীরিক নির্যাতন এবং সিগারেট দিয়ে শরীরে জখম করার মতো নির্যাতনের ঘটনাও ঘটেছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, বর্তমানে কয়েকজন ভুক্তভোগী নারী মিশরে আটক রয়েছেন। তাদের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এসআরবি জানায়, ২০২৫ ও ২০২৬ সালের এ পর্যন্ত র‍্যাব ও এসআরবির অভিযানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মোট ২২৩ জন মানবপাচারকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার আরজুরহমানকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সহযোগী ও মানবপাচার চক্রের সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।