এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ

আজ সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফল ঘোষণা করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডসহ মোট ১১টি বোর্ডে এবার সর্বমোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে শুধু ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন। গত বছর সাধারণ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ১৮ জন; সেই হিসাবে এবার সাধারণ বোর্ডে জিপিএ-৫ এর সংখ্যা কমেছে ১৯ হাজার ৯ জন।
অন্যদিকে, শুধু ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এবার পাসের হার ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৬৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। অর্থাৎ সাধারণ বোর্ডেও পাসের হার কমেছে ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ। এবার সারা দেশে মোট ৩০ হাজার৪০২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ৩ হাজার৮৮৩টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেয়। গত বছরের তুলনায় এবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩০৩টি এবং পরীক্ষা কেন্দ্রের সংখ্যা ২০১টি বেড়েছে।
এবারের ফলাফলের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো ছাত্রীদের ধারাবাহিক সাফল্য। ৯টি সাধারণ বোর্ডে ছাত্রদের তুলনায় ১ লাখ ৭ হাজার৯৮২ জন বেশি ছাত্রী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। শুধু পাসের হারেই নয়, মেধার দিক থেকেও ছাত্ররা পিছিয়ে পড়েছে। ছাত্রদের চেয়ে ১১ হাজার৪০১ জন বেশি ছাত্রী এবার সর্বোচ্চ সূচক জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।
উদ্বেগ বাড়াচ্ছে শূন্য পাস প্রতিষ্ঠান
পাসের হার কমার পাশাপাশি এবার একটিও শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি বা ‘শূন্য পাস’ করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে, যা শিক্ষা প্রশাসনে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
সাধারণ বোর্ড: এবার ৯টি সাধারণ বোর্ডে শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৭টিতে, যা গত বছর ছিল ৪৮টি।
কারিগরি বোর্ড: কারিগরি শিক্ষা বোর্ডেও এবার শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯টিতে, যেখানে গত বছর একটি প্রতিষ্ঠানও এই তালিকায় ছিল না।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ফলাফল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে পাসের হার ও জিপিএ-৫ কমার সুনির্দিষ্ট কারণগুলো খতিয়ে দেখা হবে। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানে শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করেছে, তাদের বিরুদ্ধে নিয়মানুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।


