লামা স্বপ্নকানন বিদ্যাপীঠে এসএসসির ফলাফলে আনন্দ, পাস ৭৬.৪৭ শতাংশ

নজরুল ইসলাম (লামা, বান্দরবান) প্রতিনিধিঃ
বান্দরবানের লামা উপজেলার রূপসীপাড়া ইউনিয়নে অবস্থিত লামা স্বপ্নকানন বিদ্যাপীঠে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। নতুন ও পুরাতন শিক্ষার্থী মিলিয়ে বিদ্যালয়টির মোট ৩৪ জন পরীক্ষার্থী এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ২৬ জন কৃতকার্য হয়েছে। বিদ্যালয়ের পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৭৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ।
বিদ্যালয়ের ফলাফল অনুযায়ী, কৃতকার্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬ জন A, ৯ জন A-, ৭ জন B এবং ৪ জন C গ্রেড অর্জন করেছে। পাশাপাশি এবারের ফলাফলে বিশেষভাবে গর্বের বিষয় হলো, বিদ্যালয়ের দুইজন শিক্ষার্থী GPA ৪.৯৪ অর্জন করেছে। তারা A+ অর্জনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে বিদ্যালয়ের জন্য গৌরব বয়ে এনেছে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, শিক্ষার্থীদের এ ফলাফলের পেছনে নিয়মিত ক্লাস, অতিরিক্ত পাঠদান, দুর্বল শিক্ষার্থীদের বিশেষ তদারকি, নিয়মিত পরীক্ষা গ্রহণ ও ফলাফল বিশ্লেষণের পাশাপাশি শিক্ষকদের হোম ভিজিট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে শিক্ষকদের যোগাযোগ আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে এবং পড়াশোনার অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
লামা স্বপ্নকানন বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক আপেল বড়ুয়া বলেন, “এই সাফল্য কোনো একক ব্যক্তির নয়। এর পেছনে রয়েছে শিক্ষকদের নিরলস পরিশ্রম, শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায়, অভিভাবকদের সহযোগিতা এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির আন্তরিক প্রচেষ্টা।”
তিনি আরও বলেন, “নিয়মিত ক্লাস, অতিরিক্ত পাঠদান, দুর্বল শিক্ষার্থীদের বিশেষ তদারকি, নিয়মিত পরীক্ষা ও ফলাফল বিশ্লেষণের পাশাপাশি শিক্ষকদের হোম ভিজিট শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয় তৈরি করেছে। আর এই শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবকের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই আমাদের সাফল্যের মূল শক্তি।”
প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অ্যাডভোকেট মামুন মিয়া বলেন, “এই ফলাফল অত্র প্রতিষ্ঠানের জন্য খুবই ফলপ্রসূ। আমি আশা করি, ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।”
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের এ অর্জন বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক ও পরিচালনা কমিটির জন্য আনন্দের। আগামী দিনে শিক্ষার মান আরও উন্নত করে শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল অর্জনে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষামুখী না করে নিয়মিত পড়াশোনার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়। নিয়মিত পরীক্ষা ও ফলাফল বিশ্লেষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কোন বিষয়ে দুর্বলতা রয়েছে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও অতিরিক্ত পাঠদানের ব্যবস্থা করা হয়।
এ ছাড়া শিক্ষকদের হোম ভিজিটের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ, উপস্থিতি ও অগ্রগতি সম্পর্কে অভিভাবকদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করা হয়েছে। ফলে বিদ্যালয় ও পরিবারের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এবারের ফলাফলে GPA ৪.৯৪ অর্জনকারী দুই শিক্ষার্থী বিশেষ প্রশংসা পেয়েছে। তাদের এই অর্জন বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীদেরও ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফলের জন্য অনুপ্রাণিত করবে বলে আশা করছেন শিক্ষকরা।
ফলাফল প্রকাশের পর বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। কৃতকার্য শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের উচ্চশিক্ষা ও ভবিষ্যৎ জীবনের সাফল্য কামনা করেছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে আগামীতে লামা স্বপ্নকানন বিদ্যাপীঠ আরও ভালো ফলাফল অর্জনের পাশাপাশি লামা উপজেলার শিক্ষাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।


