লামা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের টিফিন সরবরাহে দরপত্র আহ্বান

নজরুল ইসলাম | লামা, বান্দরবান
বান্দরবানের লামা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য টিফিন/খাবার সরবরাহের লক্ষ্যে দরপত্র আহ্বান করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কার্যালয় থেকে প্রকাশিত দরপত্র বিজ্ঞপ্তিতে প্রকৃত খাবার প্রস্তুতকারী ও সরবরাহকারী সুপ্রতিষ্ঠিত ও অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির কাছ থেকে সিলমোহরযুক্ত বন্ধ খামে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৩ আগস্ট ২০২৬ সকাল ১০টা থেকে ১৩ আগস্ট ২০২৬ সকাল ১১টা পর্যন্ত নির্ধারিত মূল্যে দরপত্রের শিডিউল সংগ্রহ করা যাবে। দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৩ আগস্ট সকাল ১১টা এবং একই সময় সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে দরপত্র খোলা ও বাছাই করার কথা রয়েছে।
দরপত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে সরবরাহকারীকে খাবারের নমুনা প্রদর্শন করতে হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা খাবারের গুণগত ও পরিমাণগত মান ঠিক রাখা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং স্বাস্থ্যসম্মতভাবে খাবার প্রস্তুত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনো অবস্থাতেই বাসি কিংবা নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করা যাবে না বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরবরাহকারীকে প্রতিদিন সকাল ১১টার মধ্যে বিদ্যালয়ে খাবার পৌঁছে দিতে হবে। খাবারের বিল অ্যাকাউন্ট পে-চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে। সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রযোজ্য ভ্যাট ও ট্যাক্স সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকেই বহন করতে হবে।
দরপত্রে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে আবেদনপত্রের সঙ্গে বৈধ ট্রেড লাইসেন্স এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ভ্যাট রেজিস্ট্রেশনের সত্যায়িত ফটোকপি জমা দেওয়ার শর্ত রয়েছে। পাশাপাশি দরপত্র প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অসৎ প্রভাব বিস্তার বা অনিয়মের চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্ট দরপত্রদাতাকে অযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এ উদ্যোগের ফলে শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিত টিফিন সরবরাহের সুযোগ তৈরি হলেও এখন মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে কোন প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান খাবারের মান ও নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত করতে পারছে।
বিশেষ করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের খাবারের ক্ষেত্রে নিম্নমানের উপকরণ, অপরিষ্কার পরিবেশে খাবার প্রস্তুত কিংবা বাসি খাবার সরবরাহের মতো কোনো ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। একই সঙ্গে খাবারের নির্ধারিত পরিমাণ, সময়মতো সরবরাহ এবং দরপত্রের শর্ত যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না—সেটিও নিয়মিত তদারকির আওতায় আনার দাবি রয়েছে।


