জুলাই আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট হাসিনা ৩ শতাধিক শ্রমিককে হত্যা করেছে : মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেছেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনার দমন-পীড়নে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ৩ শতাধিক শ্রমিক শহীদ হয়েছেন। প্রকৃত শহীদ, আহত, পঙ্গুত্ববরণকারী ও নির্যাতিতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন করে তাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আজ বাদ আছর আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরের উদ্যোগে আয়োজিত জুলাই মিছিল-পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। পরে একটি বর্ণাঢ্য মিছিল নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মুহাম্মদ ইসহাক এবং নগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক চসিক মেয়রপ্রার্থী অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী।
মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদের সংখ্যা ১ হাজার ৪০০-এর বেশি উল্লেখ করা হলেও সরকারি গেজেটে এখনো ৯০০-এরও কম নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী প্রকৃত শহীদের সংখ্যা আরও বেশি। তাই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সকল শহীদ, আহত, পঙ্গুত্ববরণকারী ও নির্যাতিতদের তালিকাভুক্ত করে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে হবে।
তিনি বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা। সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত না হওয়ার ধারাবাহিকতায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সৃষ্টি হয়েছে। জুলাই কোনো দলের সম্পদ নয়; এটি সমগ্র জাতির অর্জন। শহীদদের আত্মত্যাগকে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে নয়, জাতীয় ঐক্যের চেতনায় মূল্যায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনে আত্মদানকারী চট্টগ্রামের সাত শ্রমিক শহীদসহ সারাদেশের সকল শহীদের প্রতি তিনি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
সভাপতির বক্তব্যে এস এম লুৎফর রহমান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান সফল করতে শ্রমিক সমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও আজও জুলাই যোদ্ধাদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নিশ্চিত হয়নি। বরং বিভিন্ন স্থানে তাদের রাজনৈতিকভাবে হয়রানি ও হামলার শিকার হতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন শিল্প-কারখানা একের পর এক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার শ্রমিক কর্মসংস্থান হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কর্মসংস্থান রক্ষা, শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ এবং সংকটাপন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো সচল রাখতে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও অধিকার নিশ্চিত করে শ্রমবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
মহানগর সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব চৌধুরীর সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ফেডারেশনের মহানগর সহ-সভাপতি মকবুল আহমেদ ভূঁইয়া, খুলশী থানা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মুহাম্মদ আলমগীর, ফেডারেশনের মহানগর সহ-সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শিহাব উল্লাহ ও আসাদ উল্লাহ আদিল, সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ হামিদুল ইসলাম, কোতোয়ালী থানা জামায়াতের সেক্রেটারি মোস্তাক আহমদ।
এত আরও উপস্থিত ছিলেন কোতোয়ালী থানা জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আ,ন,ম জোবায়ের, ফেডারেশনের মহানগর কোষাধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুন্নবী, দপ্তর সম্পাদক স. ম. শামীম, প্রচার সম্পাদক আব্দুর রহীম মানিক, ট্রেড ইউনিয়ন সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এবং পাঠাগার সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।


