রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬, ঢাকা

Uncategorized

বছর ঘুরে এলো মাহে রমজান

দীর্ঘ এগারো মাস পর আবারো ফিরে এলো সিয়াম-সাধনার মাস পবিত্র মাহে রমজান। এ মাসে মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের জন্য বিশেষ রহমতের দ্বার উন্মুক্ত করে দেন। তাই মুমিনের উচিত, এই মাসটিকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়ার মাধ্যমে স্বাগত জানানো। নিম্নে এই মাসে করণীয় কিছু বিষয় তুলে ধরা হলো; গুরুত্বসহকারে রোজা রাখা : মহান আল্লাহ এ মাসের রোজাকে ফরজ করেছেন। তাই মুমিনের উচিত, এই মাসে রোজা রাখার ব্যাপারে যত্নবান হওয়া। এই মাসে ঈমানসহ পুণ্যের আশায় রমজানের রাখার ফজিলত হলো, রোজাদারের আগের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (বুখারি, হাদিস : ৩৮)

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ে যত্নবান হওয়া : এই ইবাদত সারা বছরই ফরজ। তবে এ মাসে যেহেতু সব আমলের মর্যাদা বাড়িয়ে দেওয়া হয়, নামাজের মাধ্যমে অতীতের গুনাহ মাফ হয়, তাই এ মাসে যেন কোনো অবস্থাতেই নামাজে অবহেলা না হয়, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকা উচিত। (মুসলিম, হাদিস : ৪৩১)
রাত জেগে ইবাদত করা : হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি রমজানের রাতে ঈমানসহ পুণ্যের আশায় রাত জেগে ইবাদত করে, তার আগের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (বুখারি, হাদিস : ৩৭)

কারো কারো মতে এখানে রাত জেগে ইবাদত দ্বারা উদ্দেশ্য তারাবির নামাজ আদায় করা। রমজানে অধিক পরিমাণে সদকা করা : ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) সর্বাপেক্ষা বেশি দানশীল ছিলেন। তাঁর দানশীলতা বহুগুণ বর্ধিত হতো রমজানের পবিত্র দিনে যখন জিবরাইল (আ.) তাঁর সঙ্গে দেখা করতেন। জিবরাইল (আ.) রমজানের প্রতি রাতে তাঁর সঙ্গে দেখা করে কোরআনের সবক দিতেন। রাসুল (সা.) কল্যাণ বণ্টনে প্রবাহিত বাতাসের চেয়েও বেশি দানশীল ছিলেন। (বুখারি, হাদিস : ৩৫৫৪)

রোজাদারকে ইফতার করানো : জায়েদ ইবনে খালিদ আল জুহানি (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করায়, সে ওই রোজাদারের সমপরিমাণ সওয়াব পায়। কিন্তু এর ফলে রোজাদারের সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র কমানো হবে না।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৮০৭)
বেশি পরিমাণে কোরআন তিলাওয়াত করা : আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘সিয়াম এবং কোরআন বান্দার জন্য শাফাআত করবে…।’ (শুআবুল ঈমান : ১৮৩৯)

শেষ দশকের ইবাদতে জোর দেওয়া : আয়েশা (রা.) বলেন, যখন রমজানের শেষ দশক আসত, তখন রাসুল (সা.) তাঁর লুঙ্গি কষে নিতেন (বেশি বেশি ইবাদতের প্রস্তুতি নিতেন) এবং রাত জেগে থাকতেন ও পরিবার-পরিজনকে জাগিয়ে দিতেন। (বুখারি, হাদিস : ২০২৪)
লাইলাতুল কদরের অনুসন্ধান করা : কারণ পবিত্র এই মাসে একটি সৌভাগ্যের রাত আছে, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। (সুরা : কদর, আয়াত : ১-৫)

তাই সৌভাগ্যবানদের কাতারে জায়গা করে নিতে রাসুল (সা.) এই রাতের সন্ধান করার ব্যাপারে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন। আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমরা রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে লাইলাতুল কদরের অনুসন্ধান করো।’ (বুখারি, হাদিস : ২০১৭)
সামর্থ্য থাকলে ওমরাহ করা : কারণ পবিত্র রমজান মাসে ওমরাহ পালনে হজের সমতুল্য সওয়াব পাওয়া যায়। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘রমজান মাসের ওমরাহ (সওয়াবের ক্ষেত্রে) হজের সমতুল্য।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২৯৯১)

ইতিকাফ করা : আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন। তাঁর ওফাত পর্যন্ত এই নিয়মই ছিল। (বুখারি, হাদিস : ২০২৬)

এছাড়াও এই মাসে দোয়া, জিকির ও ইস্তিগফারের মাধ্যমে এই মাসের ফজিলত অর্জন করার চেষ্টা করার সুযোগ রয়েছে। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে পবিত্র এই মাসের পরিপূর্ণ ফজিলত র্অজনের তাওফিক দান করুন। আমিন।