মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ঢাকা

Uncategorized

“লামা-আলীকদমে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর আর্থসামাজিক জরিপের প্রশিক্ষণ শুরু”

নজরুল ইসলাম, লামা (বান্দরবান):

বান্দরবানের লামা ও আলীকদম উপজেলায় ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর আর্থসামাজিক অবস্থা ও দারিদ্র্য পরিস্থিতি নিরূপণ জরিপ ২০২৬’ কার্যক্রমের আওতায় গণনাকারী ও সুপারভাইজারদের তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) লামা উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়। আগামী ২৮, ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর তিন দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হবে।

প্রশিক্ষণে লামা ও আলীকদম উপজেলার মোট ১০৫ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করছেন। এর মধ্যে লামা উপজেলার ৬০ জন এবং আলীকদম উপজেলার ৪৫ জন গণনাকারী ও সুপারভাইজার রয়েছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মঈন উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন লামা পৌরসভার সাবেক মেয়র ও বান্দরবান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আমির হোসেন।
প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মোহাম্মদ মহিউদ্দীন, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা, চকরিয়া, কক্সবাজার।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা ও ব্যবস্থাপনা করছেন সাইফুল ইসলাম, উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসার, লামা।
প্রশিক্ষণে মাঠপর্যায়ে জরিপ পরিচালনার বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা, জীবনযাত্রার মান, আয়-ব্যয়, পেশা, শিক্ষা, বাসস্থান, সম্পদ ও দারিদ্র্য পরিস্থিতিসহ প্রয়োজনীয় তথ্য কীভাবে সঠিকভাবে সংগ্রহ ও লিপিবদ্ধ করতে হবে—এসব বিষয়ে প্রশিক্ষণার্থীদের ধারণা দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি জনগোষ্ঠীর প্রকৃত আর্থসামাজিক অবস্থা ও দারিদ্র্যের চিত্র জানতে নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী গণনাকারী ও সুপারভাইজারদের জরিপের প্রশ্নমালা, তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি, উত্তরদাতার কাছ থেকে সঠিক তথ্য নেওয়া এবং সংগৃহীত তথ্য যাচাইয়ের বিষয়ে প্রশিক্ষিত করা হচ্ছে।

জরিপের মাধ্যমে লামা ও আলীকদম উপজেলার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের আর্থসামাজিক বাস্তবতা ও দারিদ্র্য পরিস্থিতির একটি হালনাগাদ চিত্র পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। সংগৃহীত তথ্য ভবিষ্যতে প্রয়োজনভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ, দারিদ্র্য হ্রাস এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণে সহায়ক হতে পারে।

তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শেষে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত গণনাকারী ও সুপারভাইজাররা নির্ধারিত এলাকায় গিয়ে জরিপের তথ্য সংগ্রহ করবেন। মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে সঠিকতা, নিরপেক্ষতা ও তথ্যের গোপনীয়তা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।