সরকারি বরাদ্দের অর্থের অনিয়ম, বিদ্যালয়ের জমি ও এককভাবে কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ

এম. এস. আই শরীফ, ভোলাহাট (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে হাঁসপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেহেরুন্নেসা বেগমের অপসারণসহ বিভিন্ন দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়রা। প্রধান শিক্ষক ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দের অর্থের অনিয়ম-তছরুপ, বিদ্যালয়ের জমি সংক্রান্ত অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি এবং বিদ্যালয়ের কার্যক্রমে একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অভিযোগ তুলেছেন তারা।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে হাঁসপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে হাঁসপুকুর গ্রামের শতাধিক মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ১৯৮৩ সালে স্থানীয় জনগণের উদ্যোগ ও সহযোগিতায় হাঁসপুকুর বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় জমি কেনার জন্য স্থানীয়দের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের নামে জমি রেজিস্ট্রি না করে তৎকালীন কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের নামে জমি রেজিস্ট্রি করে নেন। পরবর্তীতে কিছু জমি বিদ্যালয়ের জন্য ফেরত দেওয়া হলেও একটি অংশ এখনো বিদ্যালয়ের নামে রেজিস্ট্রি হয়নি বলে দাবি করেন তারা।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনা ও সমাধানের চেষ্টা করা হলেও তা পুরোপুরি নিষ্পত্তি হয়নি। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্য মেহেরুন্নেসা বেগম বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমে পরিবারকেন্দ্রিক প্রভাব আরও দৃশ্যমান হয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক মেহেরুন্নেসা বেগম ও তার স্বামী মিলে বিদ্যালয়ের অধিকাংশ প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। বিদ্যালয়ের কাগজপত্র সংরক্ষণ, বিভিন্ন কার্যক্রমের তদারকি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও তার স্বামীর প্রভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। এতে বিদ্যালয়ের কার্যক্রমে অন্যদের মতামত বা অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত হয়ে একক নিয়ন্ত্রণের পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন মানববন্ধনকারীরা।
এ ছাড়া সরকারি বিভিন্ন বরাদ্দের অর্থের ব্যবহার ও হিসাব-নিকাশ নিয়েও স্থানীয়দের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে। এসব অভিযোগের পক্ষে প্রয়োজনীয় নথিপত্র রয়েছে বলে দাবি করেন মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয়রা।
মানববন্ধন থেকে প্রধান শিক্ষক মেহেরুন্নেসা বেগমের অপসারণ, বিদ্যালয়ের জমি সংক্রান্ত বিষয় তদন্ত করে বিদ্যালয়ের সম্পত্তি যথাযথভাবে নিশ্চিত করা, সরকারি বরাদ্দের অর্থের হিসাব-নিকাশ যাচাই এবং উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য সংক্রান্ত বিষয় পুনর্বিবেচনার দাবিও জানান তারা।
স্থানীয় কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি ও মসজিদভিত্তিক জামাতের সর্দাররা একই ধরনের অভিযোগ তুলে বলেন, দীর্ঘদিনের এসব বিষয় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। তাদের দাবি, বিদ্যালয়টি কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের নিয়ন্ত্রণে নয়; বরং স্থানীয় জনগণ ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থে পরিচালিত হওয়া উচিত।
এ বিষয়ে ভোলাহাট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ বলেন, “বিষয়টি কিছুটা জানি। ম্যানেজিং কমিটির ব্যাপারে আমার কাছে একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।” তবে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি সরাসরি দেখা করতে বলেন বলে জানান।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মেহেরুন্নেসা বেগমের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।


