রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬, ঢাকা

জাতীয়

সরকারি মাতামুহুরী কলেজের ২ একর জমি দখলের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন, ডিসি ও শিক্ষামন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি

নজরুল ইসলাম, লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

বান্দরবানের লামায় সরকারি মাতামুহুরী কলেজের প্রায় ২ একর রেকর্ডভুক্ত জমি দখলের অভিযোগ তুলে তা উদ্ধার করে কলেজের অনুকূলে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে লামা উপজেলা পরিষদ চত্বরে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ছাত্রদলের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে বান্দরবান জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সরকারি মাতামুহুরী কলেজের নামে রেকর্ডভুক্ত প্রায় ২ একর জমি দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তি মালিকানার দাবি করে দখলে রাখা হয়েছে। ফলে কলেজের সম্প্রসারণ, নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ, শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

বিএসএস তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শহিদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জমি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দখলে থাকার সুযোগ নেই। দ্রুত জমি দখলমুক্ত করে কলেজের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া না হলে শিক্ষার্থীরা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল মোনায়েম বলেন, সরকারি মাতামুহুরী কলেজ এলাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কলেজের রেকর্ডভুক্ত জমি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পদ। শিক্ষা কার্যক্রমের স্বার্থে এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ নিশ্চিত করতে দখলকৃত জমি দ্রুত উদ্ধার করে কলেজের অনুকূলে ফিরিয়ে দেওয়া জরুরি। এ বিষয়ে তিনি প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক শামসুল আলম, অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক রফিকুল ইসলাম খাঁ, ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক ইয়াসির আরাফাত, বাংলা বিভাগের প্রভাষক আকতার কামাল, ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক মনজুর-ই-এলাহী ও দর্শন বিভাগের প্রভাষক সুমাইয়া আক্তার। এছাড়াও কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কর্মসূচিতে অংশ নেন।

মানববন্ধন শেষে ইউএনওর মাধ্যমে জেলা প্রশাসক ও শিক্ষামন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এতে দখলকৃত জমি দ্রুত উদ্ধার করে কলেজের অনুকূলে বুঝিয়ে দেওয়া, প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়। অন্যথায় আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করার হুঁশিয়ারিও দেন শিক্ষার্থীরা।