একটি সুন্দর দেশ গড়তে ভালো মানুষের প্রয়োজন

একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা কেবল একটি স্বপ্ন নয়, বরং এটি আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার। একটি সমৃদ্ধ ও আধুনিক রাষ্ট্র গঠনের মূল চালিকাশক্তি হলো দেশপ্রেম, সততা এবং সক্রিয় নাগরিক অংশগ্রহণ।
একটি জাতি হিসেবে এগিয়ে যেতে হলে মানসম্মত শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। দক্ষ জনশক্তি গড়তে হলে কারিগরি শিক্ষা ও আধুনিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করতে হবে। বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এই যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ।
সুন্দর বাংলাদেশের প্রধান বাধা হলো দুর্নীতি। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং নাগরিকদের সচেতনতা এখানে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়ন এবং উদ্যোক্তাদের সহায়তার মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করা সম্ভব। দেশের অর্থনীতিকে মজবুত করতে দেশীয় পণ্য ব্যবহার এবং রপ্তানি বৃদ্ধির ওপর জোর দিতে হবে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (ইওউঅ) এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন সুযোগ সৃষ্টি করছে।
একটি সুন্দর দেশ মানেই একটি সবুজ ও পরিচ্ছন্ন দেশ। যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলা, গাছ লাগানো এবং নদী রক্ষা করা আমাদের প্রত্যেকের নৈতিক দায়িত্ব। পরিবেশ রক্ষায় পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্দেশনাসমূহ মেনে চলা জরুরি।
বাংলাদেশের সৌন্দর্যের অন্যতম দিক হলো এর বৈচিত্র্য। সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষের সহাবস্থান এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা একটি স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ সমাজ নিশ্চিত করবে।
একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে বড় বড় পরিকল্পনার চেয়ে ব্যক্তিগত স্তরের ছোট ছোট ইতিবাচক পরিবর্তন বেশি কার্যকর। ট্রাফিক আইন মানা থেকে শুরু করে প্রতিবেশীর প্রতি সদয় হওয়া—এই ছোট পদক্ষেপগুলোই একদিন আমাদের স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ উপহার দেবে।
একটি জাতির উন্নয়ন, শান্তি এবং সমৃদ্ধি নির্ভর করে তার নেতৃত্বের ওপর। নেতৃত্ব হলো একটি শিল্প যা কোনো সমাজ বা রাষ্ট্রকে লক্ষ্যপানে এগিয়ে নিয়ে যায় “সুন্দর বাংলাদেশ” গড়ার যে স্বপ্ন আমরা দেখি, তা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন এমন এক দল নেতা যারা কেবল দক্ষই নন, বরং মানসিকভাবে স্বচ্ছ এবং নৈতিকভাবে বলিষ্ঠ
সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণে একজন আদর্শ নেতার মধ্যে কিছু মৌলিক গুণ থাকা আবশ্যক:
ব্যক্তিগত ও জাতীয় স্বার্থের দ্বন্দ্বে সর্বদা দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া এবং দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থাকা একজন সফল নেতার প্রধান বৈশিষ্ট্য দক্ষতা ও জ্ঞান: রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রয়োজনীয় জ্ঞান, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দূরদৃষ্টিসম্পন্ন পরিকল্পনা করার ক্ষমতা থাকতে হবে দলের স্বার্থের চেয়ে দেশ ও দশের কল্যাণকে বড় করে দেখার মানসিকতা প্রয়োজন জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা: প্রশাসনিক প্রতিটি ক্ষেত্রে জনগণের কাছে জবাবদিহি করা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের প্রয়োজন অনুধাবন করা এবং সকল ধর্ম-বর্ণ ও জাতির অধিকার নিশ্চিত করা নেতৃত্বের বড় গুণ অযোগ্য ও দুর্নীতিপরায়ন নেতৃত্ব সমাজকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায়। যোগ্য নেতা না থাকলে সমাজে অশান্তি, বৈষম্য এবং অবিচার বেড়ে যায় । অন্যদিকে, একজন সৎ ও ন্যায়পরায়ণ শাসক পুরো জাতিকে আলোকিত করতে পারেন । বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় দক্ষ কান্ডারীর বিকল্প নেই ।
সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে তরুণ নেতৃত্বের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তরুণরা সাধারণত বেশি আদর্শবাদী এবং পরিবর্তনের স্বপ্নদ্রষ্টা । আসন্ন বিভিন্ন নির্বাচনে তরুণদের সচেতন অংশগ্রহণ ও নৈতিক নেতৃত্ব নির্বাচন গণতন্ত্রের ভিতকে আরও শক্তিশালী করবে ।
নেতৃত্ব নির্বাচনের মূল চাবিকাঠি জনগণের হাতে। ভোটারদের উচিত প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোনো দল বা ব্যক্তির অন্ধ আনুগত্য না করে প্রার্থীর নৈতিকতা, যোগ্যতা এবং অতীত কর্মকাণ্ড যাচাই করা । সৎ ব্যক্তিকে ভোট দেওয়া কেবল নাগরিক দায়িত্ব নয়, বরং এটি একটি নৈতিক ও ঈমানি দায়িত্বও বটে
সুন্দর বাংলাদেশ কেবল উন্নত অবকাঠামো দিয়ে গড়ে উঠবে না; এর জন্য প্রয়োজন একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা, যা কেবলমাত্র সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমেই সম্ভব । তাই আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচন করাই হোক আমাদের প্রধান অঙ্গীকার।
“শুধু গদির পরিবর্তন হলে দেশের ভাগ্য পরিবর্তন হয় না”টি আমাদের রাজনৈতিক বাস্তবতার এক রূঢ় সত্য। একটি রাষ্ট্রের ভাগ্য কেবল ক্ষমতার রদবদল বা নতুন মুখ আসার ওপর নির্ভর করে না, বরং কাঠামোগত সংস্কার এবং জনগণের মানসিক পরিবর্তনের ওপর নির্ভরশীল।
গদি বা সরকারের পরিবর্তন হলেও যদি প্রশাসনিক কাঠামো, বিচার বিভাগ এবং নির্বাচন ব্যবস্থা দুর্নীতিমুক্ত না হয়, তবে নতুন শাসকও পুরনো পথেই হাঁটতে বাধ্য হন। ঞৎধহংঢ়ধৎবহপু ওহঃবৎহধঃরড়হধষ ইধহমষধফবংয (ঞওই) বারবার উল্লেখ করেছে যে, সুশাসনের জন্য ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও স্বচ্ছতা অপরিহার্য।
গদি পরিবর্তন মানেই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা নয়। যদি দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো (যেমন পুলিশ, দুদক, নির্বাচন কমিশন) দলীয় প্রভাবমুক্ত না হয়, তবে সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন ঘটে না। ঐঁসধহ জরমযঃং ডধঃপয-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যক্তিকেন্দ্রিক ক্ষমতার পরিবর্তে প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিশালীকরণই প্রকৃত মুক্তির পথ।
সরকার বদল হলেও যদি অর্থনৈতিক নীতিতে পরিবর্তন না আসে এবং লুটপাটতন্ত্র বন্ধ না হয়, তবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান একই থাকে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার প্রয়োজন, যা কেবল ক্ষমতার হাতবদল দিয়ে সম্ভব নয়।
দেশের ভাগ্য পরিবর্তনে নাগরিকদের ভূমিকাও অনস্বীকার্য। গদি পরিবর্তনের পর যদি জনগণ কেবল মুখাপেক্ষী হয়ে বসে থাকে এবং নাগরিক দায়িত্ব পালন না করে, তবে যেকোনো সরকারই স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে পারে।
গদি পরিবর্তন কেবল একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া, কিন্তু দেশের ভাগ্য পরিবর্তন একটি দীর্ঘমেয়াদী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিপ্লব। যতক্ষণ পর্যন্ত জবাবদিহিতা, নৈতিকতা এবং সাম্যের চর্চা রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত না হবে, ততক্ষণ “গদি বদল” কেবল ইতিহাসের পুনরাবৃত্তিই ঘটাবে, প্রকৃত ভাগ্য পরিবর্তন নয়।
আপনি কি এই বিষয়ে আরও সুনির্দিষ্ট কোনো ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বা প্রশাসনিক সংস্কারের দিক নিয়ে জানতে চান?
‘দেশ গড়তে হলে শুধু নেতৃত্ব পরিবর্তন করলেই হবে না, নীতিরও আমূল পরিবর্তন করতে হবে। কারণ, নেতৃত্ব যদি পরিবর্তন হয় কিন্তু নীতি-আদর্শ, .. একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আপনার মূল্যবান ভোটটি সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে দিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারেন।
লেখক: গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও চেয়ারম্যান ন্যাশনাল এনভারনমেন্ট এন্ড হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন।


