চট্টগ্রাম, রোববার, ২৭ নভেম্বর ২০২২ , ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

নওগাঁর বদলগাছীতে আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভায় সাবেক এমপির হাত থেকে মাইক্রোফোন কেড়ে নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ৬:৩৭ : পূর্বাহ্ণ

নওগাঁ প্রতিনিধিঃ নওগাঁর বদলগাছীতে আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভায় বক্তৃতা দেওয়ার সময় নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ড. আকরাম হোসেন চৌধুরীর মাইক্রোফোন কেড়ে নিয়েছেন ওই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ছলিম উদ্দিন তরফদার সেলিম। এ সময় অনুষ্ঠানস্থলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। গত সোমবার এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পরলে ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে পরে।

প্রায় সাড়ে তিন মিনিটের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ৪৮ নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ছলিম উদ্দীন তরফদার সেলিম উত্তেজিত স্বরে সাবেক সাংসদ সদস্য আকরাম হোসোন চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করে বক্তব্য দিচ্ছিলেন। এর কিছুক্ষণ পর একই সারিতে বসে থাকা সাবেক সংসদ সদস্য আকরাম হোসেন চৌধুরীর সামনে টেবিলে মাইক্রোফোন ফেলে দেন বর্তমান এমপি ছলিম উদ্দীন তরফদার। তখন আকরাম হোসেন চৌধুরী মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে কথা বলতে শুরু করলে আবার তাঁর কাছ থেকে মাইক্রোফোন জোর করে কেড়ে নিয়ে ছলিম উদ্দীন তরফদার উত্তেজিত কণ্ঠে বক্তব্য দিতে শুরু করেন। তখন আওয়ামী লীগের তৃণমুল নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনার সৃস্টি হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার বিলাশবাড়ী ইউনিয়নের শিবপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় এই ঘটনাটি ঘটে। সভায় সাবেক সংসদ সদস্য ও বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আকরাম হোসেন চৌধুরীর কাছ থেকে মাইক্রোফোন কেড়ে নেন বর্তমান সংসদ সদস্য ছলিম উদ্দিন তরফদার।

কেন এমনটা ঘটল জানতে চাইলে ড.আকরাম হোসেন চৌধুরী বলেন, ওই ইউনিয়নে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের মধ্যে দুটি ভাগ হয়ে গেছে। অথচ সবাই বলেন বিলাশবাড়ী ইউনিয়নটি আওয়ামী লীগের ঘাঁটি। যদি এমনটাই হয়, তাহলে গত নির্বাচনে নৌকা কেন পরাজিত হলো? আমার প্রশ্ন হলো, যেখানে ঘাঁটি ছিল তাহলে হঠাৎ করে সেটি ভেঙে গেল কেন। তখন উদাহরণ দিয়ে বলি, সত্যিকার অর্থে দল যখন ক্ষমতায় থাকে তখন অনেক সময় আমরা অবহেলা করি। দল নিয়ে চিন্তা করি না। কিন্তু বিরোধী দল যখন ক্ষমতায় থাকে তখন আমাদের অনেক চিন্তা করতে হয়। মরহুম ডেপুটি স্পিকার আখতার হামিদ সিদ্দিকী ১৭ বছর ক্ষমতায় ছিলেন। তাঁর সময়ে দুই উপজেলার তেমন কোন উন্নয়ন হয়নি। আমার সময়ে অনেক উন্নয়ন করেছি।

তিনি বলেন, ‘বক্তব্যের একপর্যায়ে বলেছিলাম, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভালো সম্পর্ক থাকলে মন্ত্রী ও সচিবসহ বিভিন্ন দপ্তর সহযোগিতা করে। এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে বর্তমান সংসদ সদস্য ছলিম উদ্দিন তরফদার মাইক্রোফোন কেড়ে নেন। তাঁকে আমি বোঝাতেই পারিনি এ বক্তব্যের শেষ পয়েন্টটা আসলে কী ছিল। মাইক্রোফোন কেড়ে নিয়ে আমাকে উদ্দেশ্য করে তিনি নানান ধরনের তর্কবিতর্ক শুরু করে দিলেন। তাঁর মনে হয়তো আঘাত লাগায় তিনি এমনটা করেছেন। কিন্তু তাঁকে কটাক্ষ বা লক্ষ্য করে কিছু বলিনি বা বলতে চাইনি। তিনি আমার প্রতি অবিচার করেছেন এবং আমাকে লাঞ্ছিত করেছেন সবার সামনে। তিনি হয়তো আমাকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু আমি ধৈর্য ধরে ছিলাম।

এ বিষয়ে ছলিম উদ্দিন তরফদার বলেন, ‘আমি সেদিন বলেছিলাম, সামনে সম্মেলন উপলক্ষে যে উদ্দেশ্য বর্ধিত সভা হচ্ছিল, সে বিষয়ে আপনে (আকরাম হোসেন চৌধুরী) কথা বলেন। কিন্তু তিনি বর্ধিত সভার বিষয়ে কোন কথা না বলে তাঁর সময়ে কী কী উন্নয়ন করেছেন সেসব কথা বলছিলেন। তিনি আমাকে উদ্দেশ্য করে কথাগুলো বলছিলেন। ওই ইউনিয়নে ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী নির্বাচনে যদি ভুল হয়, তাহলে ২০১৪ সালে আপনে নৌকা প্রতীকে নির্বাচনের করার পরও কেন আমার কাছে পরাজিত হলেন। এর জবাবটা কে দেবে? একজন ভালো এমপি হতে গেলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক বা যোগাযোগ রাখতে হবে। এতে করে মন্ত্রী ও সচিবরা গুরুত্ব দেবেন। এটা দিয়ে তিনি আসলে কী বোঝাতে চেয়েছেন। এ কারণে তাঁকে ল্যাঙ্গুয়েজ ঠিক রেখে কথা বলতে বলেছিলাম।’

মাইক্রোফোন কেড়ে নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ছলিম তরফদার বলেন, ‘নৌকার জন্য যখন আপনার এত ভালোবাসা, তাহলে মাইক্রোফোন নিয়ে একটু বলেন ২০১৮ সালে নির্বাচনের সময় কোথায় কার জন্য ভোট চেয়েছেন কি তার কোনো প্রমাণ দেখাতে পারবেন। তখন তিনি মাইক্রোফোন নিয়ে বললেন, ওই সময় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান থাকায় ভোট চাওয়া সম্ভব হয়নি। তখন আমি মাইক্রোফোন তাঁর কাছ থেকে নিয়ে নেই। এটাই ছিল মূল কথা।’ তবে লাঞ্ছিত করার মতো কোনো ঘটনা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন ।

ঘটনাটি নিয়ে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। আকরাম হোসেন চৌধুরীর সমর্থক বিলাশবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কর্মী ইউসুফ আব্দুল্লাহ সহ অনেকেই বলেন, ‘এমন ঘটনার ধিক্কার ও নিন্দা জানাই। প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি সঠিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।’

ছলিম তরফদারের সমর্থক স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সোহেল রানা বলেন, ‘ওই সভায় আমিও ছিলাম। এমপি সাহেব যেটা করেছেন ঠিকই করেছেন। তিনি এমপি থাকার সময় নানা বিতর্ক সৃষ্টি করেছিলেন। অথচ এখন তিনিই বড় বড় কথা বলেন। তাঁকে অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেওয়াই ঠিক নাই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের প্রায় অর্ধশতাধীক নেতা-কর্মিরা বলেন, বর্তমানে সাবেক সংসদ সদস্য আকরাম হোসেন চৌধুরীর জনপ্রিয়তা এলাকায় বেশি থাকায় এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য।

বিষয়টি নিয়ে কথা হলে বদলগাছী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু খালেদ বুলু বলেন, সেদিনের অনুষ্ঠানে আমিও উপস্থিত ছিলাম। সাবেক ও বর্তমান এমপির মাঝে এলাকার উন্নয়ন নিয়ে সামান্য ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। যেটা ঘটেছে সেটা একটি অনাকাঙ্খিত ঘটনা। তবে পরে সেটা নিরসন হয়েছে।

২০০৮ সালে সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ড. আকরাম হোসেন চৌধুরী। ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ছলিম উদ্দীন তরফদার সেলিম। প্রায় তিন বছর দলের বাইরে রাখা হয় তাকে। ২০১৬ সালের দিকে তিনি আবার দলে অন্তর্ভুক্ত হন।

২০১৫ থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন ড. আকরাম হোসেন চৌধুরী।#

সান্তাহার রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের এসি টিকিট না পেয়ে শিক্ষকের খোলা চিঠি, ফেসবুকে নিন্দার ঝড়

নওগাঁ প্রতিনিধিঃ আজকাল কেউ তেমন আর চিঠি লিখে না। চিঠির অপেক্ষা এখন আর কেউ করেন না। কিন্তু একটি হাতে লেখা চিঠি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিন্দার ঝড় তুলেছে। গত রবিবার (১১ সেপ্টেম্বর) বগুড়া জেলার আদমদিঘি উপজেলার সান্তাহার রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের এসি টিকিট না পেয়ে এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে খোলা চিঠি লেখেন। তিনি হলেন-নওগাঁ সদর উপজেলার দোগাছী এলাকার বাসিন্দা ও নওগাঁ কেডি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. মোবারক আলী শেখ।

সেই খোলা চিঠিতে ওই শিক্ষক লেখেন, ‘সান্তাহার রেলওয়ে টিকিট কাউন্টারে দাঁড়িয়েছি রোববার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টা ২২ টায় ১ নম্বর কাউন্টারে আমি ১ম ব্যক্তি। আশা ছিল ২টা টিকেট পাব এসি সিগ্ধার। তারিখ ১৫/০৯/২২, ট্রেন কুড়িগ্রাম। ৮.০০ টায় কাউন্টার খোলা হলো। টিকিট যিনি দিচ্ছেন উনি একজন নারী। বললাম ‘মা’ আামাকে ২টা এসি টিকিট দেন। উনার উপরের বস একজন, যিনি টিকেট কাউন্টারের হেড।

তাঁর নির্দেশ মোতাবেক আমাকে টিকেট না দিয়ে এসি সিগ্ধার সব টিকেট তার বসকে দিয়ে দিলেন। আমি কয়েক বার তাদের কাছে অনুরোধ করেও ব্যর্থ হয়েছি। আমার বয়স ৬৫ বছর পেরিয়েছে। আমি একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। বসের কথা রানীনগরের এসি ল্যান্ড স্যারের সব টিকেট লাগবে। তাই তিনি আমাকে ২টা টিকেট (এসি সিগ্ধা) দিতে পারবেন না।

আমি অনেক কষ্ট পেয়েছি। বুঝাতে পারছি না নিজের মনকে। কাউন্টার থেকে বেড়িয়ে বাসায় আসলাম।’

এ বিষয়ে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মোবারক আলী শেখ ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন, ‘পত্রে যা লেখা আছে সবই সঠিক। আমার চাওয়া ছিল শুধু দুইটি টিকিট। বার্ধক্যজনিত বা বয়স্ক যারা টিকিট কিনতে লাইনে দাঁড়ায় সবাইকে সম্মান করা উচিত বলে মনে করি। পরে কয়েকটি জায়গা থেকে ট্রেনের টিকিট দেওয়ার জন্য আমাকে ফোন করা হয়েছিল যা প্রত্যাখান করেছি।’

এদিকে এ প্রসঙ্গে স্টেশনের বুকিং সহকারি নাসরিন সুলতানা বলেন, ‘স্টেশনের দুই কাউন্টার থেকে নিয়মিত এবং অগ্রীম টিকিট দেওয়া হয়। তার (শিক্ষক) চাহিদা ছিল এসি চেয়ারের দুইটি টিকিট। কম্পিউটারে যখন সার্চ করা হলো তখন একটি টিকিট দেখা যায়। যেহেতু সিট নাই এজন্য তাকে এসি কেবিনের কথাও বলেছিলাম কিন্তু তিনি নিতে চাননি। তিনি অন্য কোনো ট্রেনের টিকিটও নিতে চান না। পরে তিনি ফেসবুকে ভুল তথ্য দিয়েছেন। আমি নাকি এসি টিকিট প্রিন্ট করে বসের হাতে দিয়েছি, যা আমার কাছেও দুঃখজনক মনে হচ্ছে। সে সময় আমার পাশের কাউন্টার থেকে কয়েকটি এসি টিকিট বিক্রি হয়েছে। তিনি কেন আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেন বুঝতেছি না।’

এ ব্যাপারে সান্তাহার রেলওয়ে স্টেশনের প্রধান বুকিং মনিরুল করিম বলেন, ‘অগ্রীম টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই কাউন্টার থেকেও টিকিট বিক্রি হয়। ওই শিক্ষককে টিকিট দেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে দেখা যায় তার চাহিদা মতো টিকিট নাই।’

সান্তাহার রেলওয়ে স্টেশন মাষ্টার রেজাউল করিম ডালিম বলেন, ওইদিন টিকিট বিক্রিয়ের সময় কি হয়েছিল জানা নেই। তবে ফেসবুকে একটি চিঠি দেখে বিষয়টি অবগত হয়েছি। তবে এটি ছোটখাটো বিষয় বলে মনে হয়েছে।

Print Friendly and PDF