শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬, ঢাকা

অর্থনীতি

ব্যাংকার স্বামীর নির্যাতনের অভিযোগ, প্রতিবন্ধী সন্তান নিয়ে কোথায় যাবেন ফাতেমা?

মারুফ চৌধুরী-খুলনা সিটি 

“আমি একজন কন্যাসন্তানের মা, কারও বোন এবং কোনো পিতার কন্যা। আমি আর নির্যাতন সহ্য করতে পারছি না। আমি বাঁচতে চাই। প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে এখন কোথায় যাব?”—এভাবেই কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজের ওপর নির্যাতনের কথা তুলে ধরেছেন খুলনার লবণচরা থানাধীন উত্তর হরিণটানা ডি আলী স্কুল এলাকার বাসিন্দা ফাতেমা তুজ জোহরা।

বৃহস্পতিবার খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি তার স্বামী, ননদ ও ভাসুরের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, যৌতুক দাবি এবং বিভিন্নভাবে হয়রানির অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, ২০২১ সালের ১ অক্টোবর ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী উত্তর হরিণটানা এলাকার হাওলাদার বাড়ির মোতালেবের ছেলে মো. আলমগীর হোসেনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। তার দাবি, শিশুটি প্রতিবন্ধী।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, বিয়ের পর স্বামী বেকার থাকায় প্রবাসী দুই বোনের কাছ থেকে আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে তাকে জনতা ব্যাংকে চাকরির ব্যবস্থা করে দেন। পরে স্বামীর নামে থাকা জমিতে প্রায় ৩০ লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি বাড়ি নির্মাণ করে দেন। এছাড়া নিজের ব্যাংক হিসাবে থাকা পাঁচ লাখ টাকা স্বামীর নামে এফডিআর করে দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

ফাতেমার অভিযোগ, শুরুতে সংসার ভালোভাবে চললেও পরবর্তীতে তার ভাসুর মোহাম্মাদ জাহাঙ্গীর আলম তার প্রতি কুপ্রস্তাব দিতে থাকেন। এতে রাজি না হওয়ায় তিনি ও তার ননদ হাসনা হেনা বিভিন্নভাবে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চালাতে থাকেন। একপর্যায়ে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করেন ফাতেমা।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার সন্তানকে নিয়েও নানা ধরনের মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়। পরে স্বামী আলমগীর হোসেন পরিবারের সদস্যদের পরামর্শে তার কাছে যৌতুক দাবি করে এবং তাকে নির্যাতন করেন। এ ঘটনায় বিচার চেয়ে তিনি আদালতে মামলা করেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানান।

ফাতেমার দাবি, ওই মামলায় জেল থেকে জামিনে বের হওয়ার পর গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৭টার দিকে তার স্বামী আলমগীর হোসেন অন্যদের সহযোগিতায় তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এ সময় তিনি শারীরিকভাবে গুরুতর আহত হন এবং তার অনাগত সন্তান নষ্ট হয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, নির্যাতনের সময় চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে তাকে স্বামীর বাড়িতে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ফাতেমা বলেন, “আমি যৌতুকের টাকা দিয়েছি, স্বামীকে চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছি, বাড়ি বানিয়ে দিয়েছি। তারপরও যদি নির্যাতনের শিকার হতে হয়, তাহলে প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে আমি কোথায় যাব? আমি নিরাপত্তা চাই, আমি বাঁচতে চাই।”

এদিকে ফাতেমার অভিযোগের বিষয়ে তার স্বামী আলমগীর হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি জানান, গত ১৭ সেপ্টেম্বর স্থানীয় কাজী অফিসে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে তিনি স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন। ফাতেমার ওপর নির্যাতনের অভিযোগ সঠিক নয় বলেও দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ফাতেমা তুজ জোহরা তার ও তার সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানান।