শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬, ঢাকা

আইন ও আদালত

নিরাপত্তা বিধানেই সীমাবদ্ধ নয় সেনা ভূমিকা: বান্দরবান সেনা রিজিয়নের পৃষ্ঠপোষকতায় ১৯ তরুণ দক্ষ কারিগর

নজরুল ইসলাম, বান্দরবান প্রতিনিধি:

পাহাড়ের তরুণদের হাতে কেবল ডিগ্রি নয়, তুলে দেওয়া হচ্ছে আত্মনির্ভরতার মোঘল চাবি। সদিচ্ছা আর সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে যে পাহাড়ি জনপদের বেকারত্ব ঘুচিয়ে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করা সম্ভব, তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বান্দরবানের ১৯ জন উদ্যমী তরুণ। ফ্রিজ ও এয়ার কন্ডিশনার (এসি) মেরামত এবং রক্ষণাবেক্ষণের ওপর নিবিড় প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা এখন পুরোপুরি প্রস্তুত নিজেদের ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বান্দরবান কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি), মেঘলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ সমাপনী অনুষ্ঠানে সফলভাবে কোর্স সম্পন্ন করা এই তরুণদের হাতে সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জনকল্যাণমূলক ও সামাজিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় গত ৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছিল মাসব্যাপী এই কারিগরি প্রশিক্ষণ। বান্দরবান সেনা রিজিয়নের পৃষ্ঠপোষকতায়, বান্দরবান সদর জোনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এবং মেঘলা টিটিসির দক্ষ প্রশিক্ষকদের পরিচালনায় এ কোর্সটি পরিচালিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সনদপত্র বিতরণ করেন বান্দরবান রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ও ৬৯ পদাতিক ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, এসপিপি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বান্দরবান কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাহাতাব উদ্দিন পাটোয়ারী।

প্রশিক্ষণকালে শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ না রেখে তরুণদের হাতে-কলমে শেখানো হয়েছে ইলেকট্রনিক যন্ত্রের জটিল সব কাজ। ফ্রিজ ও এসির ভেতরের সূক্ষ্ম যন্ত্রাংশের কাজ, হঠাৎ বিকল হওয়া যন্ত্রের সমস্যা শনাক্তকরণ, নিখুঁত মেরামত এবং দীর্ঘমেয়াদি সার্ভিসিংয়ের ওপর দেওয়া হয়েছে আন্তর্জাতিক মানের ব্যবহারিক শিক্ষা। ফলে কোর্স শেষে প্রতিটি তরুণ এখন যেকোনো ওয়ার্কশপ বা সার্ভিস সেন্টারে কাজ করতে কিংবা নিজস্ব ব্যবসা শুরু করতে পুরোপুরি সক্ষম।

পার্বত্য অঞ্চলে বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ফ্রিজ ও এসির চাহিদাও জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। কিন্তু সে তুলনায় দক্ষ কারিগরি জনবলের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা স্থানীয় পর্যায়ে কাজ শুরু করলে যেমন দ্রুত সেবা নিশ্চিত হবে, তেমনি এই তরুণরাও ঘরে বসেই সম্মানজনক আয়ের পথ খুঁজে পাবেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা চাকরির মুখাপেক্ষী না হয়ে নিজ দক্ষতায় উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান জানান। তারা উল্লেখ করেন, পাহাড়ি জনপদের অর্থনীতিকে সচল করতে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই।
সনদপত্র হাতে পাওয়ার পর তরুণদের চোখেমুখে ছিল জয়ের আনন্দ ও সুদৃঢ় আত্মবিশ্বাস। প্রশিক্ষণার্থীদের প্রত্যাশা, পাহাড়ে নিজেদের এই কারিগরি দক্ষতা ছড়িয়ে দিয়ে তারা দ্রুতই পরিবার ও সমাজের প্রধান অর্থনৈতিক চালিকাশক্তিতে পরিণত হবেন। অনুষ্ঠানে সামরিক-বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।