শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ঢাকা

আইন ও আদালত

ফ্যাসিস্টমুক্ত লামা প্রেস ক্লাব গঠনের দাবিতে মানববন্ধন, কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি”

লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

বান্দরবানের লামায় স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী দোসরদের মুক্ত করে একটি ‘ফ্যাসিস্টমুক্ত লামা প্রেস ক্লাব’ গঠনের দাবিতে বিক্ষোভ ও শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় লামা উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক ঐক্য’-এর ব্যানারে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বর্তমান প্রেস কমিটির তীব্র সমালোচনা করে অবিলম্বে পেশাদার ও মুক্ত সাংবাদিকদের হাতে ক্লাবের দায়িত্ব হস্তান্তরের জোর দাবি জানান। অন্যথায় আগামীতে আরও কঠোর ও ধারাবাহিক আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।ফ্যাসিবাদীদের পদত্যাগের দাবি বক্তাদেরমিরর নিউজের লামা উপজেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে মূল বক্তব্য রাখেন লামা পৌর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আরিফ চৌধুরী। তিনি বলেন, “লামা প্রেস ক্লাবকে বৈষম্যহীন করতে হবে।

যারা ফ্যাসিবাদের দালালি করেছেন, তারা অবিলম্বে ইস্তফা দিন। মুক্ত সাংবাদিকতায় নিয়োজিত প্রকৃত সাংবাদিকদের হাতে ক্লাবের দায়িত্বভার তুলে দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”লামা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মো. জাকির হোসেন বলেন, “বিগত ১৭-১৮ বছর ধরে প্রেস ক্লাবকে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগের সমস্ত কুকর্মের বৈধতা দেওয়া হয়েছে। পকেট কমিটি বিলুপ্ত করে অবিলম্বে তাদের সরে যেতে হবে এবং নতুনদের সুযোগ করে দিতে হবে।”উপজেলা বিএনপির সাবেক আইন বিষয়ক সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক মোহাম্মদ করিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই তিন তলার মধু খেয়ে অনেক বছর মজা নিয়েছেন, এবার থামেন। অনেক অরাজকতা করেছেন, আর নয়।

”সমাজকর্মী ও সাংবাদিক আদহাম বিন ইব্রাহিম বলেন, “এই লামা প্রেস ক্লাবটি আমার বাবা নিজের হাতে গড়েছিলেন। এটা পুরো লামাবাসীর সম্পদ। আপনারা যারা এটাকে বাপ-দাদার ব্যক্তিগত সম্পত্তি মনে করে দখল করে আছেন, তারা সেই ভুল ভুলে যান।” এ সময় তিনি অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।সবশেষে সাংবাদিক নজরুল ইসলাম আলটিমেটাম দিয়ে বলেন, “সময় থাকতে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে এসে সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রেস ক্লাব গঠনে সহযোগিতা করুন। অন্যথায় লামার সর্বস্তরের কর্মরত সাংবাদিকরা আপনাদের উপযুক্ত জবাব দিয়ে নিজেদের হিস্যা বুঝে নেবে।

”আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক অবস্থানমানববন্ধন চলাকালীন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে লামা থানা পুলিশ, ডিএসবি ও ডিজিএফআইসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও গোয়েন্দা বাহিনীর প্রতিনিধিদের ঘটনাস্থলে সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়।উদ্বিগ্ন সাংবাদিকদের সংহতিউক্ত কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আকবর হোসেন, এনসিপির লামা উপজেলা সদস্য সচিব ও সাংবাদিক আব্দুল করিম, উপজেলা মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক ফখরুজামান, উপজেলা জিয়া মঞ্চের আহ্বায়ক মো. রাশেদ এবং বান্দরবান ছাত্র ফেডারেশনের সংগঠক জাহিদুল ইসলাম।

এছাড়াও গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক আজকালের কণ্ঠের প্রতিনিধি মো. চান মিয়া, একুশে নিউজের প্রতিনিধি মো. নুরুল আলম, দৈনিক রূপালী বাংলাদেশের প্রতিনিধি তারেকুল ইসলাম বোখারী এবং দৈনিক ভোরের চেতনা প্রতিনিধি মাইন উদ্দিনসহ স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

কঠোর আন্দোলনের আলটিমেটামমানববন্ধন শেষে আয়োজকদের পক্ষ থেকে পরবর্তী ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। বক্তারা জানান, লামায় কর্মরত সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা, মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিগুলো যদি অনতিবিলম্বে মেনে নিয়ে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টরা পদক্ষেপ না নেয়, তবে আগামীতে আরও কঠোর ও লাগাতার আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। পরবর্তীতে একটি শান্তিপূর্ণ সমাপ্তির মাধ্যমে উক্ত কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।