রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬, ঢাকা

আইন ও আদালত

ফুলপুরে খাল খনন প্রকল্পের ১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ফেরত

সেলিম রানা,ফুলপুর ( ময়মনসিংহ)
ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার রূপসী ইউনিয়নের জারুল খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত ১ কোটি ৫৪ লাখ ৫৩ হাজার ৩৮৫ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

মাঠপর্যায়ে যাচাই-বাছাইয়ে খালটি পুনরায় খননের প্রয়োজনীয়তা না পাওয়ায় এবং নির্ধারিত সময়ে কাজ বাস্তবায়ন সম্ভব না হওয়ায় বরাদ্দের পুরো অর্থ অব্যয়িত অবস্থায় সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি)-এর আওতায় রূপসী ইউনিয়নের জারুল খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।

প্রকল্পের আওতায় পাঁচ কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা ছিল এবং এ জন্য ১ কোটি ৫৪ লাখ ৫৩ হাজার ৩৮৫ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

কিন্তু নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। প্রকল্পের সমাপ্তি প্রতিবেদনে এর অগ্রগতি শূন্য শতাংশ (০%) উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে সরকারি আর্থিক বিধি অনুসরণ করে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে সম্পূর্ণ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।

এ-সংক্রান্ত সমাপ্তি প্রতিবেদন ও ট্রেজারি চালানের কপি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইউসুফ বলেন,সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, জারুল খালটি আগে থেকেই পর্যাপ্তভাবে খনন করা ছিল। তাই নতুন করে খাল খননের প্রয়োজনীয়তা পাওয়া যায়নি। এছাড়া নির্ধারিত সময়ে খালে পানি থাকায় কাজ বাস্তবায়নও সম্ভব হয়নি।

সরকারি অর্থের অপচয় রোধে বরাদ্দের পুরো অর্থ ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “সরকারি অর্থের সঠিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবহার নিশ্চিত করাই আমাদের

লক্ষ্য। চলতি অর্থবছরে নতুন করে যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত প্রয়োজন রয়েছে এমন স্থান নির্বাচন করে খাল খননের প্রকল্প গ্রহণ করা হবে, যাতে কৃষকরা

বাস্তবিক অর্থেই উপকৃত হন। সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অনিয়ম বা মানদণ্ডের ব্যত্যয় কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।