রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬, ঢাকা

Uncategorized

ঠাকুরগাঁওয়ে ব্যতিক্রমী চড়ক মেলা: গ্রামীণ ঐতিহ্যের রঙে মুখর জনপদ

ঠাকুরগাঁওয়ে দুই দিনব্যাপী ব্যতিক্রমী চড়ক মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে প্রাণ ফিরে পেয়েছে গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য। দূর-দুরান্ত থেকে আসা হাজারো দর্শনার্থীর পদচারণায় মেলার প্রাঙ্গণ ছিল উৎসবমুখর।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত ফারাবাড়ি গ্রামের শিব মন্দির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী চড়ক পূজা ও হস্তকারুশিল্প প্রদর্শনী মেলা। এর প্রধান আকর্ষণ ছিল গ্রামীণ শিল্পীদের হাতে তৈরি নান্দনিক হস্তশিল্প। কাগজ ও বাঁশ দিয়ে তৈরি হাতি, হেলিকপ্টার, নৌকা, পালকি, গরু, জিরাফ, মাছসহ নানা জীবজন্তু ও যানবাহনের প্রতিরূপ দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কেড়েছে।

শুধু প্রদর্শনী নয়, এসব শিল্পকর্ম অনেক ক্ষেত্রে নিজ হাতে চালিয়ে দেখানোর ব্যবস্থা থাকায় দর্শনার্থীরা পেয়েছেন ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা। সোমবার বিকেলে মেলার সমাপ্তি হয়।

মেলাকে ঘিরে শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী নারী-পুরুষের ঢল নামে। হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা পরিণত হয় এক উৎসবমুখর জনসমুদ্রে।

দর্শনার্থীরা জানান, এমন বৈচিত্র্যময় ও ব্যতিক্রমী মেলা সচরাচর দেখা যায় না। গ্রামীণ ঐতিহ্যের এমন জীবন্ত উপস্থাপনায় তারা আনন্দিত ও অভিভূত। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার দাবি জানান তারা।

মেলা কমিটির সভাপতি বাবু চন্দ্র বর্মণ জানান, বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বৈশাখ মাসে ৩ থেকে ৫ বছর পরপর এ চড়ক পূজা ও হস্তকারুশিল্প মেলার আয়োজন করা হয়। এবারের আসর ছিল ১০৫তম। গ্রামবাংলার ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং মানুষের জন্য বিনোদনের সুযোগ সৃষ্টি করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

মেলা কমিটির উপদেষ্টা প্রদীপ কুমার রায় বলেন, বৈরী আবহাওয়া সত্ত্বেও শান্তিপূর্ণভাবে মেলা সম্পন্ন হয়েছে। তবে ব্যয়বহুল হওয়ায় ভবিষ্যতে এমন আয়োজন চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। এ ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে সরকারি সহায়তার প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

গ্রামীণ সংস্কৃতির এমন আয়োজন শুধু বিনোদন নয়, বরং আমাদের শিকড়ের সঙ্গে নতুন করে সংযোগ তৈরি করে—যা সংরক্ষণে প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ।