শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতির যোগ্যতা পুনর্বিবেচনা জরুরি – কবীর ছিদ্দিকী

স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার প্রধান হওয়ার জন্য বিভিন্ন সরকার ভিন্ন ভিন্ন সময়ে বিভিন্ন শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা নির্ধারণ করে দিয়ে আসছে।২০২৬ সালে সর্বোচ্চ অভিজ্ঞতা ১৮ বছর নির্ধারণ করা হয়। (আমার মতে, সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রী মহোদয় মনে করে থাকেন যে, অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠান ভালোভাবে চালাতে পারবে। যার যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা যতো বেশী ততো পরিপক্ক হবে)।
কলেজ, মাদরাসা ও স্কুলের প্রধান হতে এমএ পাশ বা সমমানের পাশ বাধ্যতামূলক। আরো শর্ত জুড়ে দেয়া হয়- অনার্সসহ প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণি সকল স্তরে থাকতেই হবে, কোনমতে তৃতীয় শ্রেণি গ্রহনযোগ্য হবেনা।
মানুষ গড়ার কারিগরদেরকে যেভাবে শর্ত জুড়ে দেয়া হয়, (সে মানুষ গড়ার কারিগরদের পরিচালক প্রধানের কেমন যোগ্যতা থাকা দরকার তা সরকার বাহাদুরের পুনরায় বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে, মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্যদের ব্যাপারে ভিন্ন নীতি থাকতে পারে)।
বলতে গেলে বলতে হয়, নেপোলিয়ন বোনাপার্টের কথা। তিনি বলেছিলেন, You give me an educated mother And i shall promise you the birth of a civilized educated nation.
নেপোলিয়নের পাকাপোক্ত ধারণা যে, একজন শিক্ষিত মা তার সন্তানাদিকে লালন-পালনের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা আবশ্যক।
যেখানে সন্তানদেরকে লালন-পালনের জন্য যোগ্যতা দরকার সেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের পরিচালনার জন্য কী যোগ্যতা দরকার নেই?
এক একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সর্বনিম্ন ২০ জন এমএ বা সমমান পাশ ও সর্বোচ্চ ৩০০ জনের উপরে শিক্ষক চাকরিরত থাকেন। তাদের পরিচালক যদি আন্ডারমেট্রিকোলেট বা তার চেয়ে নিম্ন শিক্ষিত পরিচালক হয়, তা কী মানাবে?
বিভিন্ন স্হানে, হাটে-বাজারে, রাস্তা-ঘাটে, অফিস-আদালতে তথা সর্বজায়গায় প্রতিষ্ঠানের কমিটির সভাপতির যোগ্যতা নিয়ে কথা চলছে।
বলাবাহুল্য যে, সভাপতির যোগ্যতা নির্ধারণে দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, বয়স ও পদ-পদবির প্রতি খেয়াল রেখে কমপক্ষে ইন্টার কলেজ বা সমমানের এবং স্কুল ও দাখিল মাদরাসায় বিএ ডিগ্রি ও ডিগ্রি কলেজ বা মাদরাসা, বা মাষ্টার্স কলেজ ও কামিল মাদরাসা পর্যায়ে পোস্ট গ্র্যাজোয়েট ডিগ্রিধারী সভাপতি নির্ধারণ করা যেতে পারে। হয়তো এমনও হতে পারে, বিভিন্ন স্থানে ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পরিবেশ ও অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে হ-য-ব-র-ল ও বুমেরাং হতে পারে।
সুতরাং, মাননীয় সরকার বাহাদুরের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি- বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও প্রতিষ্ঠান প্রধান এবং শিক্ষকদের ডিগনিটির প্রতি খেয়াল রাখা। কমিটির সভাপতির যোগ্যতা নির্ধারণে পুন: বিবেচনা করার জন্য জোর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
লেখক: কবির ছিদ্দিকী, সহসভাপতি- কক্সবাজার জেলা প্রেসক্লাব


