শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ঢাকা

অর্থনীতি

লামায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০০ পরিবারের মাঝে ঘর নির্মাণ ও গৃহস্থালি সামগ্রী বিতরণ

নজরুল ইসলাম, লামা (বান্দরবান):

বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের মিয়াজীপাড়ায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় ১০০ পরিবারের মাঝে ঘর নির্মাণ সামগ্রী ও গৃহস্থালি সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছে আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশন।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মিয়াজীপাড়াস্থ তাকওয়া ভ্যালী এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ সহায়তা বিতরণ শুরু হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মাহবুব-উল-আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দিন।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাদের পুনর্বাসনে সহায়তার অংশ হিসেবে ঘর নির্মাণের প্রয়োজনীয় সামগ্রীসহ বিভিন্ন গৃহস্থালি উপকরণ দেওয়া হচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো নতুন করে ঘর মেরামত ও বসবাসের উপযোগী করার সুযোগ পাবে।

আয়োজকরা জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। পর্যায়ক্রমে নির্বাচিত ১০০টি পরিবারের মধ্যে এসব সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।

সহায়তা পাওয়া পরিবারের সদস্যরা জানান, বন্যায় তাদের ঘরবাড়ি ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তারা দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকটে ছিলেন। ঘর নির্মাণ সামগ্রী ও গৃহস্থালি উপকরণ পাওয়ায় তাদের দুর্ভোগ কিছুটা কমবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ঘর পুনর্নির্মাণে সহায়তা হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তি ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বানও জানান তারা।

এ সময় ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং উপকারভোগী পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, বান্দরবানের পাহাড়ি এলাকায় বর্ষা মৌসুমে বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের কারণে বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি ও বসতভিটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে বিভিন্ন সংস্থা ও সামাজিক সংগঠন সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।