সোশ্যাল মিডিয়ার নিয়ন্ত্রণ এখন সময়ের দাবি…

প্রযুক্তির অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেওয়া নয়, বরং প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাই এখন আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আজ আমাদের জীবনযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
কিন্তু নিয়ন্ত্রণহীন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যবহার ধীরে ধীরে আমাদের কিশোর ও তরুণ প্রজন্মের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
বিশেষ করে কিছু প্ল্যাটফর্মে অশ্লীলতা, সহিংসতা, মাদক, কিশোর গ্যাং সংস্কৃতি, সাইবার অপরাধ, অনলাইন হয়রানি এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করে এমন কনটেন্ট সহজেই ছড়িয়ে পড়ছে।
অনেক কিশোর-তরুণ দিনের একটি বড় সময় এসব প্ল্যাটফর্মে কাটাচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে তাদের শিক্ষা, মানসিক বিকাশ, পারিবারিক সম্পর্ক, সামাজিক মূল্যবোধ ও ভবিষ্যৎ জীবনের ওপর।
তাই ইউটিউব, ফেসবুক, টিকটক, ইনস্টাগ্রামসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কার্যকর নিবন্ধন, জবাবদিহিতা, ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা ও আইনগত নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা এখন অত্যন্ত জরুরি। তবে নিয়ন্ত্রণ মানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বন্ধ করা নয়।
বরং স্বাধীন মতপ্রকাশের পাশাপাশি অপরাধ, প্রতারণা, গুজব, সাইবার হয়রানি এবং শিশু-কিশোরদের জন্য ক্ষতিকর কনটেন্টের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
আমাদের সন্তানদের হাতে স্মার্টফোন থাকবে, কিন্তু সেই প্রযুক্তি যেন তাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার কারণ না হয়—এ দায়িত্ব পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র এবং প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম—সবার।
এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে এখনই সমন্বিত, বাস্তবসম্মত ও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি, স্কুল-কলেজে ডিজিটাল সচেতনতা, ক্ষতিকর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ এবং অনলাইন অপরাধের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা—সবকিছুকে একই সঙ্গে গুরুত্ব দিতে হবে।
আজকের কিশোর-তরুণরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ। তাদের নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে এর মূল্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দিতে হবে।
তাই আসুন—সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধের দাবি নয়, নিরাপদ, দায়িত্বশীল, নিয়ন্ত্রিত ও জনকল্যাণমুখী ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার দাবি তুলি।
সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার রোধে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ—এখন আর বিলাসিতা নয়, সময়ের দাবি।
আমরা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে নই। কিন্তু মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পাল গুজব, প্রতারণা সাইবার অপরাধ, হয়রানি অপরাধী শ্রানোর স্বাধীনতা স্থানীয় হতে পারে না।
আমার লক্ষ্য ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে শুধু বিবৃতি দিয়ে দায়িত্ব শেষ করতে না দেওয়া। বাস্তবসম্মত আইন, প্রয়োগ, দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নিজস্বদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
একই পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শিশু-কিশোরদের ডিজিটেল জ্ঞানতা ও জ্ঞান প্রতিষ্ঠা লাভের শিক্ষা দিতে হবে।
মনে রাখতে হবে—আজ আমরা অনলাইনের অপব্যহার নিয়ন্ত্রণে বসলে, আগামীকাল তার মাশুল দিতে হবে আমাদের পুরো সমাজকে।
তাই এখনই নিতে হবে—প্রযুক্তি থাকবে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থাকবে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে; কিন্তু অপরাধ, অশ্লীতা, হয়রানি, গুজব ও ছাত্রদের বিপথগামিতার বিরুদ্ধে কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও অধিকারীতা থাকবে।
জনপ্রিয় প্রজন্ম চাই, ডিজিটাল বাংলাদেশ চাই—এ টাইম জিনিষ।
মোজাম্মেল হক সাধারণ সম্পাদক
তামাকুমন্ডি লেইন বনিক সমিতি চট্টগ্রাম
বেসরকারি কারা পরিদর্শক
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার


