তেলের দাম বাড়ার খবরে খুলনার ফিলিং স্টেশনগুলোতে উপচে পড়া ভিড়

ফাহিম ইসলাম,খুলনা জেলা প্রতিনিধি:
হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর খবরে খুলনার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল, সিএনজি ও প্রাইভেটকারের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। নতুন দাম কার্যকর হওয়ার আগে পুরোনো দামে জ্বালানি সংগ্রহ করতে রাত থেকেই বিভিন্ন পাম্পে ভিড় করেন সাধারণ ভোক্তারা।
খুলনা নগরীর পাওয়ার হাউজ মোড়ে অবস্থিত *কেসিসি ফিলিং স্টেশন* ও *মেঘনা ফিলিং স্টেশনে* রাত থেকেই দীর্ঘ সারি দেখা যায়। ভোক্তাদের অনেকে জানান, সরকারি গেজেট অনুযায়ী রাত ১২টার পর থেকে নতুন দাম কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এ কারণে বাড়তি দামে জ্বালানি কেনার আগে পুরোনো দামে তেল নিতে তারা পাম্পগুলোতে ছুটে আসেন।
তবে হঠাৎ করে প্রতি লিটারে ২০ টাকা দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ভোক্তারা। তাদের দাবি, চলতি বছরে কয়েক মাসের ব্যবধানে একাধিকবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলে পরিবহন ব্যয়সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বাড়তে পারে। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে অনেকের জন্য ব্যক্তিগত যানবাহন ব্যবহার কঠিন হয়ে পড়বে বলেও মন্তব্য করেন তারা।
পাওয়ার হাউজ মোড়ের মেঘনা ফিলিং স্টেশনে রাত ১২টা ৭ মিনিটের দিকে মজুদ শেষ হয়ে গেছে বলে জানানো হয়। এতে অনেক গ্রাহক তেল না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যান। অন্যদিকে একই এলাকার কেসিসি ফিলিং স্টেশনে তখনও জ্বালানি বিক্রি করতে দেখা যায়।
এদিকে নগরীর নিউমার্কেট এলাকায় অবস্থিত *খুলনা মেট্রোপলিটন ফিলিং স্টেশন* রাত ১১টার দিকে জ্বালানি বিক্রি বন্ধ করে দেয় বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ভোক্তা। তাদের দাবি, প্রায় এক ঘণ্টা বন্ধ রাখার পর রাত ১২টার পর আবার জ্বালানি বিক্রি শুরু করা হয় নতুন দামে।
ভোক্তাদের অভিযোগ, নতুন দাম কার্যকর হওয়ার আগে পাম্পে থাকা পুরোনো দামের মজুদকৃত জ্বালানি এক ঘণ্টা বিক্রি বন্ধ রেখে পরবর্তীতে বাড়তি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিউমার্কেট এলাকার খুলনা মেট্রোপলিটন ফিলিং স্টেশনের মালিক *আবদুল গফফার বিশ্বাস*। তিনি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে স্থানীয়ভাবে পরিচিত।
তবে জ্বালানি বিক্রি বন্ধ রাখা এবং পরবর্তীতে নতুন দামে বিক্রি শুরু করার বিষয়ে আবদুল গফফার বিশ্বাসের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।


