বাড়ি দখল করে সাজানো হয় মিথ্যা অবরুদ্ধ থাকার নাটক

খুলনা জেলা প্রতিনিধিঃ ফাহিম ইসলাম
খুলনার দৌলতপুর থানার রায়েরমহল পশ্চিমপাড়া এলাকায় একটি বাড়িকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভিডিওতে এক সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী অভিযোগ করেন, বিএনপি নেতাকর্মীরা তার বাড়ির মূল ফটকে তালা লাগিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে এবং বাড়ি দখলের চেষ্টা করছে। তিনি আরও দাবি করেন, সংখ্যালঘু হওয়ায় তারা কোথাও ন্যায়বিচার পাচ্ছেন না।
তবে ৩০ জুলাই ঘটনাস্থলে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা ভিন্ন চিত্র দেখতে পান। স্থানীয়ভাবে দেখা যায়, বাড়ির প্রবেশপথ উন্মুক্ত রয়েছে এবং পরিবারের সদস্যরা নিজেদের ইচ্ছায় ভেতর থেকে তালা লাগিয়ে বসবাস করছেন বলে দাবি করা হয়।
ভিডিওতে থাকা নারীর বাবা গণমাধ্যমকে বলেন, *“আমরা কোনো অবরুদ্ধ অবস্থায় নেই। হিন্দু-মুসলিম নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। গত রাতে কী হয়েছে, সে বিষয়ে আমি জানি না। আমার মেয়ে বাসায় ছিল। সে কী বলেছে, তা সম্পর্কে আমি অবগত নই।”*
তিনি আরও জানান, ২০২২ সালে তার ছেলে তারা বিশ্বাসের কাছ থেকে বাড়িটি ক্রয় করেন। কেনার সময় জমিটি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান ছিল, সে বিষয়েও তারা অবগত ছিলেন। সম্প্রতি ওই মামলার রায়ে আদালত কাজলের পক্ষে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।
অপরদিকে, মামলার বাদীপক্ষের প্রতিনিধি কাজল দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তারা বিশ্বাস তার মালিকানাধীন ঘের জোরপূর্বক দখল করে প্লট আকারে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেন।
নথিপত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খুলনা জেলার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে রায়েরমহল মৌজার সিএস ৮৫/৩ ও ৮৬, এসএ ১২৬, ১২৭, ১২৮, ১২৯ ও ১৩০ এবং আরএস ১২০৭ ও ১৭১১ খতিয়ানের ৩৯১২, ৩৯১৩, ৩৯১৬, ৩৯১৭ ও ৩৯১৮ দাগভুক্ত মোট ২ দশমিক ৫২ একর জমি নিয়ে দেওয়ানি মামলা (নং- ৬৮/১০) দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন ছিল।
মামলার বাদীপক্ষের দাবি অনুযায়ী, ২৪ জুলাই ২০২৫ তারিখে আদালত প্রাথমিক রায় এবং ৩১ জুলাই ২০২৫ তারিখে প্রাথমিক ডিক্রি প্রদান করেন। পরবর্তীতে দীর্ঘ শুনানি শেষে ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে চূড়ান্ত রায় এবং ৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে চূড়ান্ত ডিক্রি জারি করে সম্পূর্ণ সম্পত্তির মালিকানা বাদীপক্ষের অনুকূলে ঘোষণা করা হয়।
বাদীপক্ষের আরও অভিযোগ, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের উপস্থিতিতে সম্পত্তি বুঝিয়ে দেওয়ার পরও বিবাদীপক্ষ পুনরায় জোরপূর্বক ২ দশমিক ৫২ একর জমি দখল করে নেয়।
তবে ভাইরাল ভিডিওতে উত্থাপিত অবরুদ্ধ থাকার অভিযোগ এবং আদালতের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক তদন্ত ও বক্তব্যের অপেক্ষায় রয়েছে স্থানীয়রা।


