চট্টগ্রামে এমএফআই প্রতিনিধিদের মতবিনিময় সভা-বন্যাদুর্গত গ্রাহকদের ঋণের কিস্তি স্থগিতসহ সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে জোর

চট্টগ্রাম, ২৭ জুলাই: সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের ঋণের কিস্তি আদায় স্থগিতসহ সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়ন নিয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার, রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলায় কর্মরত জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর (এমএফআই) প্রতিনিধিদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার চট্টগ্রামের কোডেক প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির (এমআরএ) নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ ইয়াকুব হোসেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন কোডেকের নির্বাহী পরিচালক ড. খুরশীদ আলম এবং সঞ্চালনা করেন এমআরএর পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান। অনুষ্ঠান পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতা করেন এমআরএর সহকারী পরিচালক মো. আল-আমিন।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে মোহাম্মদ ইয়াকুব হোসেন বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু সামাজিক দায়বদ্ধতা নয়, এটি একটি মানবিক কর্তব্য। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতিতে সরকার নিবিড়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ লক্ষ্যে এমআরএ সার্কুলার লেটার নং-৮৫ জারি করা হয়েছে, যার বাস্তবায়ন সরকার পর্যবেক্ষণ করছে।
তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাদের ঋণের কিস্তি আদায় স্থগিত, ত্রাণ সহায়তা প্রদান এবং জীবিকা পুনর্বাসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ায় সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশংসা করেন। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিটি শাখায় সার্কুলারের কপি বিতরণ এবং নির্দেশনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আরও বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন, ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন এবং ক্ষুদ্রঋণ খাতের টেকসই উন্নয়নে সরকার নীতিগত সহায়তাসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
সভাপতির বক্তব্যে ড. খুরশীদ আলম বলেন, দুর্যোগকালীন সময়ে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের পাশে থাকার এবং পুনর্বাসন কার্যক্রমে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
সভা সঞ্চালনাকালে এমআরএর পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান সার্কুলার লেটার নং-৮৫-এর বিভিন্ন নির্দেশনা তুলে ধরে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের তালিকা প্রণয়ন, ঋণের কিস্তি স্থগিতাদেশ কার্যকর, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা এবং গৃহীত পদক্ষেপের অগ্রগতি নিয়মিতভাবে এমআরএকে জানানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সভায় বক্তব্য দেন প্রত্যাশীর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মনোয়ারা বেগম, ইপসার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মো. আরিফুর রহমান, ঘাসফুলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আফতাবুর রহমান জাফরী, বনফুলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজিয়া বেগম, অপকার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলমগীরসহ বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। এছাড়া প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা মাঠপর্যায়ে চলমান কার্যক্রম, বন্যাকবলিত এলাকার বাস্তব পরিস্থিতি এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের পুনর্বাসনে নেওয়া উদ্যোগ তুলে ধরেন। তারা জানান, স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় লক্ষাধিক গ্রাহক ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে ত্রাণ, চিকিৎসাসেবা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
সভায় উপস্থিত প্রতিনিধিরা এমআরএ ও সরকারের নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের পাশাপাশি বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে থেকে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও জোরদার করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তারা মত দেন, সমন্বিত উদ্যোগ, মানবিক সহায়তা এবং সময়োপযোগী পদক্ষেপের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের আর্থ-সামাজিক পুনরুদ্ধার আরও দ্রুত সম্ভব হবে।


