চট্টগ্রাম, মঙ্গলবার, ৪ অক্টোবর ২০২২ , ১৯শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

রেলমন্ত্রীর স্ত্রীর নির্দেশে টিটিইকে বরখাস্ত সমীচীন হয়নি: তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ৮ মে, ২০২২ ৯:৩০ : পূর্বাহ্ণ

রেলমন্ত্রী যে ওই কথিত আত্মীয়দের চেনেন না, সে তথ্য সঠিক। একই সঙ্গে মন্ত্রীর স্ত্রী শাম্মী আক্তারের কথায় টিটিইকে সাময়িক বরখাস্ত করাও সমীচীন হয়নি বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। রোববার (৮ মে) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আজ রোববার সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

এ সময় আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক বিষয়ে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আওয়ামী লীগ চায়, সব দলকে নিয়ে নির্বাচন হোক।

এর আগে আজ দুপুরে রেলভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে, মন্ত্রীর আত্মীয়কে জরিমানাকারী ভ্রাম্যমাণ টিকিট পরিদর্শক (টিটিই) শফিকুলের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে টিটিইকে প্রত্যাহার করা সেই পাক‌শীর বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (‌ডি‌সিও) না‌সির উদ্দিনকে শোকজ করা হবে বলে জানান রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন।

প্রসঙ্গত, গত ৪ মে দিবাগত রাতে খুলনা থেকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনে রেলমন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয়ে বিনা টিকিটে ভ্রমণ করার অভিযোগে তিন যাত্রীর কাছ থেকে নিয়মানুযায়ী জরিমানাসহ ভাড়া আদায় করেন রেলওয়ের ভ্রাম্যমাণ টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) শফিকুল ইসলাম।

ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পরই ঈশ্বরদীর পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও) নাসির উদ্দিনের নির্দেশে টিটিই শফিকুলকে বরখাস্ত করা হয়। শুক্রবার সেই আদেশ কার্যকর হয়।

বিনা টিকিটে ভ্রমণের দায়ে যাত্রীকে জরিমানা করে কোনও টিটিইর বরখাস্ত হওয়ার ঘটনা বাংলাদেশ রেলওয়ের ইতিহাসে নজিরবিহীন বলে ভাষ্য রেলওয়ে সংশ্লিষ্টদের।

এদিকে রেলমন্ত্রীকে সাময়িক পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি), যাত্রী কল্যাণ সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠন। টিআইবির পক্ষ থেকে রেলমন্ত্রীর ‘স্ত্রীর তিন আত্মীয়কে’ জরিমানার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট টিকিট পরিদর্শককে (টিটিই) সাময়িক বরখাস্ত করাকে ন্যক্কারজনক দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এক বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি ক্ষমতার অপব্যবহারের একটি নির্লজ্জ ও নিকৃষ্টতম উদাহরণ। এখানে মূলত দুইভাবে ক্ষমতার অপব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে, প্রথমত রেলমন্ত্রীর নিকটাত্মীয়দের বিনা টিকিটে রেল ভ্রমণ অর্থাৎ তারা ধরেই নিয়েছিলেন যে রেলের প্রচলিত আইন তাদের জন্য প্রযোজ্য নয়!

Print Friendly and PDF