চট্টগ্রাম, মঙ্গলবার, ৪ অক্টোবর ২০২২ , ১৯শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

আড়াই বছরের ছেলের সামনে দিনের পর দিন তান্ত্রিক বাবার ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ

প্রকাশ: ৮ মে, ২০২২ ৬:২৩ : পূর্বাহ্ণ

এক গৃহবধূকে টানা ৭৯ দিন ধরে নিজের লালসার শিকার বানিয়েছিল এক তান্ত্রিক। ওই নারীর আড়াই বছরের ছেলের সামনেই তাকে ধর্ষণ করতেন তান্ত্রিক বাবা।

এনডিটিভির শনিবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতীয় রাজ্য উড়িষ্যার বালাসোর জেলায় এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার একটি তালাবদ্ধ ঘর থেকে ওই নারী ও তার ছেলেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে সেই তান্ত্রিক বাবা পালিয়ে গেছে এবং তাকে গ্রেপ্তারে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।

পুলিশে কাছে করা অভিযোগে মধ্যবয়স্কা ওই নারী বলেন, তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকেরা তাকে ওই তান্ত্রিক বাবার কাছে জোর করে থাকতে বাধ্য করেছিল। বৈবাহিক কলহ মেটাতেই নাকি এই কাজ করে তারা।

২০১৭ সালে বিয়ে করা ওই গৃহবধূর দাবি, যৌতুকের জন্য তাকে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দ্বারা প্রতিনিয়ত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়।

এরপর ওই তান্ত্রিক বাবা তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনদের আশ্বস্ত করে যে, ওই গৃহবধূ তার (তান্ত্রিক) সঙ্গে কয়েক মাস থাকলে তিনি বিরোধ মিটিয়ে ফেলবেন। এ কথা শুনে ওই নারী তান্ত্রিকের সঙ্গে থাকতে অস্বীকৃতি জানায়।

কিন্তু শ্বশুরবাড়িরে লোকেরা তাকে অজ্ঞান করে তান্ত্রিকের কাছে রেখে আসে। যখন তার জ্ঞান ফেরে তখনি তিনি নিজেকে এবং তার ছোট্ট ছেলেকে সেই তান্ত্রিকের ঘরে আবিষ্কার করেন।

এরপর টানা ৭৯ দিন ধরে ওই নারীকে নিজ সন্তানের সামনে ধর্ষণ করেন সেই তান্ত্রিক বাবা। মা এবং ছেলেকে ওই তান্ত্রিকই খাবার দিত। ঘটনাক্রমে গেল ২৮ এপ্রিল ওই তান্ত্রিক বাবা হতভাগা গৃহবধূকে ধর্ষণ শেষে সেই ঘরে মোবাইল ফেলে রেখে চলে যান। সুযোগ পেয়ে নিজের বাবা-মাকে ফোন করে সব বলেন ওই গৃহবধূ। এরপর তারাই পুলিশে খবর দেয়।

কিন্তু পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্ত তান্ত্রিক বাবা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ৩৭৬ (ধর্ষণ) ধারাসহ ভারতীয় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলা করা হয়েছে। এফআইআর-এ ওই গৃহবধূ স্বামী, স্বামীর ভাই এবং শ্বশুরবাড়ির অন্যান্যদের নাম উল্লেখ করেছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। ওই গৃহবধূকে একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।

Print Friendly and PDF