চট্টগ্রাম, শনিবার, ২১ মে ২০২২ , ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

১০ বছর ধরে ঈদগাহ মাঠে ১৪৪ ধারা জারি

প্রকাশ: ২ মে, ২০২২ ৮:৫২ : পূর্বাহ্ণ

১০ বছর যাবৎ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার বীর বাসিন্দা-ভোজদত্ত দাখিল মাদরাসার ঈদগাহ মাঠে ১৪৪ ধারা জারির কারণে ছয়টি গ্রামের মানুষ ঈদের নামাজ আদায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই ইউনিয়নের ছয়টি গ্রামের বাসিন্দাদের বিরোধের জেরে এক ব্যক্তি খুন হওয়ার কারণে ১০ বছর ধরে এই ঈদগাহ মাঠে ১৪৪ ধারা জারি করে রেখেছেন প্রশাসন। এবারও ঈদের দিন ভোর ৫টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

জানা যায়, বীর বাসিন্দা-ভোজদত্ত ঈদগাহ মাঠে আধিপত্য নিয়ে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ভোজদত্ত, নারাঙ্গাইল, বাগোলের পাড়া, চদুলী পাড়া ও ডালুয়াবাড়ি এবং পার্শ্ববর্তী কালিহাতী উপজেলার বীর বাসিন্দা গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ২০১২ সালে বিরোধের সৃষ্টি হয়। বিরোধ নিরসনের জন্য ২০১২ সালের ২১ নভেম্বর দুই উপজেলার তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে এক বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে বীর বাসিন্দা গ্রামের আ. গফুর নামে এক ব্যক্তি আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়। এরপর যে কোনো সংঘর্ষ ও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আশঙ্কায় ওই বছরের ২৬ নভেম্বর ঈদুল আজহার দিন জেলা প্রশাসকের নির্দেশ ক্রমে স্থানীয় প্রশাসন ভোজদত্ত ঈদগাহ মাঠের আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে।

 
এ ঘটনার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় গত ১০ বছর ধরে প্রতি বছরই দুই ঈদে ভোজদত্ত ঈদগাহ মাঠে জেলা প্রশাসকের নির্দেশক্রমে ১৪৪ ধারা জারি করে আসছে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন। এবারও একই নির্দেশনা বজায় রাখার নির্দেশনা চেয়ে চিঠি দেয় উপজেলা প্রশাসন।
 
এর প্রেক্ষিতে রোববার (১ মে) অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবুল হাশেম স্বাক্ষরিত এক পত্রে ঈদুল ফিতরের দিন বীর বাসিন্দা-ভোজদত্ত দাখিল মাদরাসার ঈদগাহ মাঠে ভোর ৫টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ফৌজদারি কার্যবিধি ১৪৪ ধালার আদেশ জারি করেন।
 
তবে এলাকাবাসীর দাবি আগের মতোই শতশত মুসল্লিদের নিয়ে একসঙ্গেই ঈদের নামাজ আদায় করতে চান। বর্তমানে তারা ঈদের দিন বিভিন্ন মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করেন। এতে তাদের অনেক কষ্ট হয়। তারা ভবিষ্যতে আর ১৪৪ ধারা জারি না করে সকলে মিলেমিশে যাতে ঈদের নামাজ আদায় করতে পারেন সেই ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানান।
 
স্থানীয় মসজিতের ইমাম মাওলানা শাহআলম জানান, ২০১২ সালের ঘটনার পরের বছর তিনি ওই ঈদগাহ মাঠে ঈদের নামাজে ইমামতি করেছেন। তখন তিনি মনে করেছিলেন যে প্রতিবছরই শান্তিপূর্ণভাবে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু পরবর্তীতে দীর্ঘ ৯ বছর ধরেই ওই মাঠে ঈদ এলেই ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। তবে তিনিও চান সকলে মিলেমিশে ওই ঈদগাহ মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করুক।
 
এ বিষয়ে ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনিয়া চৌধুরী জানান, আগামী ঈদুল ফিতরের নামাজেও এই মাঠে ১৪৪ ধারা কার্যকর থাকবে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের অনুমতি চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

Print Friendly and PDF